জাকির হোসাইন (তুষার),মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ডিফেন্ডার মোঃ রহমত মিয়া ও তার প্রথম স্ত্রীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকদিন ধরে চলছে নানান বিতর্ক। স্ত্রী ও শাশুড়িকে মারধর এবং অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগের ঘটনায় যখন এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই সংবাদ সম্মেলন করে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রহমত মিয়া। একই সঙ্গে তিনি মহম্মদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানার (রহমত মিয়ার মামাশ্বশুর) বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ তুলেছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) মহম্মদপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রহমত মিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারিত সংবাদগুলো মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে একপাক্ষিকভাবে তথ্য উপস্থাপন করে তাঁর সামাজিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এর আগে গত শুক্রবার মহম্মদপুর উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামে রহমত মিয়ার নিজ বাড়িতে তাঁর প্রথম স্ত্রী সাদিয়া ইসলাম, শাশুড়ি আফরোজা বেগম, এক আত্মীয় এবং স্থানীয় এক ইউপি সদস্যকে অবরুদ্ধ ও মারধরের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারীদের দাবি, সন্তানকে দেখতে যাওয়ার পর বাড়ির ফটকে তালা লাগিয়ে তাঁদের আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন।
মারধরের শিকার দাবি করে সাদিয়া ইসলাম অভিযোগ করেন, স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে এবং দীর্ঘদিনের পারিবারিক নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় তাঁর ওপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়। ঘটনার দিন তাঁকে ফুটবল বুট ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। একই অভিযোগ করেছেন তাঁর সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যরাও।
অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলনে রহমত মিয়া এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দ্বিতীয় বিয়ে করতে তার প্রথম স্ত্রী তাকে চাপ দেন। কেন প্রথম স্ত্রী তাকে দ্বিতীয় বিবাহ করতে চাপ দেন সাংবাদিকদের এই প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন প্রথম স্ত্রী ও তার শশুর শাশুড়ি রয়েছে চরম সম্পদের লোভ। তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সরলতার সুযোগ নিয়ে অনেক সম্পদ তার মেয়ের নামে উইল করিয়ে নেয়। রহমত মিয়া বলেন এই ঘটনা কাউকে না বলার শর্তে মহম্মদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সম্পর্কে তাঁর মামা শ্বশুর মাসুদ রানা তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকরা এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ, কল রেকর্ড বা লিখিত তথ্য চাইলে রহমত মিয়া তা উপস্থাপন করতে পারেননি।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মহম্মদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, সাদিয়ার ওপর নির্যাতনের খবর পেয়ে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে সাংবাদিক ও পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল। নিজের বিরুদ্ধে আনা ৫ লাখ টাকা দাবির অভিযোগকে তিনি ‘পূর্বপরিকল্পিত অপপ্রচার’ বলে উল্লেখ করেন।
মাসুদ রানা আরও বলেন, “আমি যদি কখনও রহমতের কাছে ৫ টাকা পর্যন্ত চেয়ে থাকি, সেটির প্রমাণ দেখাতে পারলে যে কোনো সামাজিক বা আইনি শাস্তি মেনে নেব। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া এমন অভিযোগ করা দুঃখজনক।”
বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। একদিকে নির্যাতনের অভিযোগ, অন্যদিকে সেই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা আর্থিক দাবির অভিযোগ—সব মিলিয়ে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দিকে এখন সবার নজর। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে সঠিক দাবি করলেও অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এই ঘটনায় তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ছবি সংগৃহীত।

