নদীর ন্যায্য পানির দাবিতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান

নদীর ন্যায্য পানির দাবিতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

ঐতিহাসিক ফারাক্কা লং মার্চের সুবর্ণজয়ন্তী (৫০ বছর) উপলক্ষে আন্তর্জাতিক আইন ও সমতার ভিত্তিতে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার দাবিতে যশোরে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) যশোর প্রেস ক্লাবের সামনে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী পরিষদ যশোর শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

​কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল সংগঠনের নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্রনেতা এবং ১৯৭৬ সালের ফারাক্কা লং মার্চে অংশগ্রহণকারী প্রবীণ ব্যক্তিরা অংশ নেন।

ভাসানী পরিষদ যশোর শাখার আহ্বায়ক হারুন অর রশীদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান কবির।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক ছাত্রনেতা ও যশোর ইনস্টিটিউট পরিচালনা পরিষদের সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, ফারাক্কা লং মার্চে অংশগ্রহণকারী লেখক ও গবেষক মফিজুর রহমান রুন্নু, এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন যশোর জেলা শাখার সভাপতি রাশেদ খানসহ আরও অনেকে।

​বক্তারা বলেন, “ভারত আন্তর্জাতিক নদী গঙ্গার পানি একতরফাভাবে অপসারণের উদ্দেশ্যে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশের নদী ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি সংকট সৃষ্টি করেছে। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র পানিসংকট দেখা দেয়, কৃষিজমিতে সেচ ব্যাহত হয় এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হয়। আবার বর্ষা মৌসুমে হঠাৎ বাঁধ খুলে দেওয়ায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।”

​তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, পানি কোনো রাজনৈতিক দলের একক বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের জাতীয় অস্তিত্ব, কৃষি, পরিবেশ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন।

আলোচনায় বক্তারা বিগত সরকারের আমলে সম্পাদিত বিভিন্ন অসম চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেন। তারা দাবি করেন, এসব চুক্তি দেশের সার্বভৌমত্ব, অর্থনীতি ও স্বাধীন ব্যবসায়িক স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর। দেশবিরোধী ও অসম সব চুক্তি অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।

মানববন্ধনে ১৯৭৬ সালের সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনের স্মৃতি বুকে ধারণ করে উপস্থিত ছিলেন বহু প্রবীণ সংগ্রামী। তাঁদের মধ্যে প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, প্রকৌশলী রুহুল আমিন, শরিফ হোসেন, ইসমাইল হোসেন, বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের আহ্বায়ক হাসিনুর রহমান, কমিউনিস্ট লীগ নেতা জিল্লুর রহমান ভিটু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক এবং বাম নেতা কমরেড খবির শিকদারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি প্রকাশ করেন।

সমাপনী বক্তব্যে বক্তারা বলেন, মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে সেই আন্দোলন প্রমাণ করেছিল—নদী রক্ষার সংগ্রাম মানেই দেশের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম। তারা দল-মত নির্বিশেষে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *