স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে এক নারীকে দিনদুপুরে জিম্মি ও অপহরণ করে আটকে রেখে বারবার ধর্ষণের অভিযোগে তাঁরই তালাকপ্রাপ্ত সাবেক স্বামী নূর আলম হোসেনের (৩১) বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গতকাল রোববার (২৬ জুলাই ২০২৬) রাতে ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর বাড়ি যশোর সদর উপজেলার বকচর চৌধুরীপাড়া এলাকায়। আর অভিযুক্ত নূর আলম হোসেন শার্শা উপজেলার বড় নিজামপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৯ সালে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বিয়ের পর চিকিৎসাগত বিভিন্ন পরীক্ষায় স্বামীর সন্তান জন্মদানের অক্ষমতা ধরা পড়লে চলতি ২০২৬ সালের ১৮ জানুয়ারি স্বামীকে বিধিসম্মতভাবে তালাক দেন ওই নারী।
তালাকের পর থেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে নূর আলম তাঁকে পুনরায় বিয়ের জন্য মোবাইলে অব্যাহত চাপ এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গত ২৫ মার্চ যশোর শহরের মুজিব সড়কের টাউন হল মাঠ সংলগ্ন একটি কাজী অফিসে স্বজনদের সহযোগিতায় ওই নারীকে জোরপূর্বক পুনরায় বিয়ে করেন অভিযুক্ত। তবে বিয়ের দুই দিন পর, অর্থাৎ ২৭ মার্চ তিনি স্বামীকে দ্বিতীয়বারের মতো পুনরায় তালাক দেন।
মামলার বিবরণীতে অভিযোগ করা হয়, গত ২৬ জুন রাত ৮টার দিকে ভুক্তভোগী নারী যশোর শহরের মনিহার মোড়ে ফল কিনতে যান। এ সময় অভিযুক্ত নূর আলম ও তাঁর সহযোগী অজ্ঞাতনামা ২-৩ জন ব্যক্তি তাঁকে অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেন। সেখান থেকে তাঁকে শার্শার বড় নিজামপুর গ্রামে নিয়ে একটি কক্ষে বন্দী করে রাখা হয় এবং প্রতিনিয়ত শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি বারবার ধর্ষণ করা হয়। সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই রাত ১০টার দিকেও অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নারীকে নির্যাতন ও ধর্ষণ করেন।
টানা নির্যাতনে চরম অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২৫ জুলাই সকালে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন অভিযুক্ত। সেখানে সুযোগ বুঝে কৌশলে পালিয়ে বেঁচে যান তিনি এবং সোজা কোতোয়ালী মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে মামলা দায়ের করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা হয়েছে। মামলাটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে।
ফাইল ছবি সংগৃহীত।


