বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের রহিম উদ্দিন বিশ্বাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসা পড়ুয়া এক নিয়মিত ছাত্রকে জালিয়াতির মাধ্যমে একই সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়েও ভর্তি দেখিয়ে অবৈধভাবে ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়ার এবং পরবর্তীতে ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নিজাম উদ্দিন নামের এক অভিভাবকের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাইয়ান উদ্দিন নিহান নামের এক শিক্ষার্থী বর্তমানে হাসনাপাড়া কেরাতুল কুরআন মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণীর নিয়মিত ছাত্র এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতায় তাঁর নিয়মিত উপস্থিতিও রয়েছে। অথচ, অবিশ্বাস্যভাবে ওই একই ছাত্রকে রহিম উদ্দিন বিশ্বাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি দেখানো হয়েছে এবং সেখানেও তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি দেখানো হচ্ছে। একজন ছাত্র একই সময়ে কীভাবে দুটি ভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা ও উপস্থিত থাকতে পারে—এমন চাঞ্চল্যকর বিষয়ে জানতে শিক্ষার্থীর বাবা ও সভাপতি প্রার্থী নিজাম উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।
আরও ভয়াবহ তথ্য হলো, জালিয়াতি ঢাকতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মূল হাজিরা খাতায় অন্য এক শিক্ষার্থীর নামের ওপর ফ্লুইড (সাদা কালি) লাগিয়ে তা মুছে সেখানে শিক্ষার্থী নিহানের নাম বসানো হয়েছে। নিজের বিদ্যালয়ে সংঘটিত এমন জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে রহিম উদ্দিন বিশ্বাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল কুদ্দুস খান কোনো মন্তব্য করতে বা কথা বলতে রাজি হননি।
এলাকার একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আগামী ৩০ জুন রহিম উদ্দিন বিশ্বাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে, যাতে অন্যতম সভাপতি পদপ্রার্থী হয়েছেন এই নিজাম উদ্দিন। কিন্তু একজন অভিভাবক হয়ে এভাবে সম্পূর্ণ অবৈধ ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্ত করে নির্বাচন করতে আসা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
শিক্ষার্থীর মাদ্রাসা পড়াশোনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাসনাপাড়া কেরাতুল কুরআন মাদ্রাসার প্রধান মাওলানা আল আমিন বলেন, “নিহান আমার মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণী পাস করে বর্তমানে তৃতীয় শ্রেণীতে নিয়মিত পড়াশোনা করিতেছে। এর আগে সে ক্লাস ওয়ানে অন্য একটি মাদ্রাসায় পড়তো।”
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনী প্রিজাইডিং অফিসার ও শিক্ষক হিরন বলেন, “বিষয়টি নিয়ে সংক্ষুব্ধ পক্ষ রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
রহিম উদ্দিন বিশ্বাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা তথা উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার এস এম বজলুল করিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আপাতত নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। তবে, কোনো প্রার্থীর অবৈধ উপায়ে বা জালিয়াতি করে ভোটার হওয়ার বিষয়ে যদি আমরা লিখিত অভিযোগ পাই, তবে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ছবি-বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু।

