টানা এক বছরের লড়াইয়ের পর অবশেষে মুক্তি পাচ্ছে উপশহর

টানা এক বছরের লড়াইয়ের পর অবশেষে মুক্তি পাচ্ছে উপশহর

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরের জনপ্রিয় ও পাঠকনন্দিত গণমাধ্যম স্ফুলিঙ্গ এ সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। যশোর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও জনবহুল ৫ নম্বর উপশহর ইউনিয়নের কলোনীবাসী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিনের অভিশাপ  ‘জলাবদ্ধতা ও নোংরা পরিবেশ’ থেকে চিরতরে মুক্তি দিতে শুরু হয়েছে এক ঐতিহাসিক ও মহা-উন্নয়ন যজ্ঞ। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনের উপচেপড়া ময়লা-আবর্জনা এবং জমে থাকা পচা পানির কারণে গৃহবন্দী থাকা হাজার হাজার মানুষের কষ্ট লাঘবে অবশেষে ভারী এস্কেভেটর (ভেকু মেশিন) এনে ড্রেন পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশনের কাজ চূড়ান্তভাবে শুরু হয়েছে।

উপশহরের এই অবর্ণনীয় দুর্ভোগ নিয়ে অতি সম্প্রতি স্ফুলিঙ্গ একটি বিশেষ অনুসন্ধানী ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি সুধী সমাজ ও প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হলে টনক নড়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এরই সুনির্দিষ্ট ধারাবাহিকতায় এবং সংবাদের অবর্তনহীন সূত্র ধরে যশোর সদর উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি ভিত্তিতে একটি বিশেষ বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। ৫ নম্বর উপশহর ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি জহির মেম্বার, পারভীন এবং স্থানীয় সমাজসেবকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও যৌথ উদ্যোগে এই উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হওয়ায় পুরো উপশহর জুড়ে সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগী কলোনীবাসী ও আভিযানিক দল সূত্রে জানা গেছে, উপশহর এলাকার এই নির্দিষ্ট অঞ্চলটি এর জন্মলগ্ন থেকেই এক তীব্র ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার ভেতর আঁকড়ে ছিল। সামান্য বৃষ্টি হলেই ড্রেনের সমস্ত কুৎসিত ময়লা-আবর্জনা মানুষের বসতবাড়ির সামনে ও প্রবেশদ্বারে ভেসে বেড়াত। এই তীব্র অবহেলা ও দুরাবস্থার কারণে দীর্ঘকাল ধরে কলোনীর কোমলমতি বাচ্চাকাচ্চারা স্কুল মাঠে খেলাধুলা করতে পারছিল না এবং এলাকার প্রবীণ ও বয়স্ক মানুষরা তীব্র গন্ধ ও নোংরা পানি মাড়িয়ে মসজিদে নামাজ আদায় করতে যেতে পারছিলেন না, যা ছিল নাগরিক অধিকারের চরম অবমাননা।

এলাকার এই অন্তহীন কান্না ও দুর্ভোগ দূর করতে এবং প্রশাসনের কান পর্যন্ত সাধারণ মানুষের আর্তনাদ পৌঁছে দিতে প্রায় এক বছর আগে স্থানীয় তরুণ সমাজসেবক এবং কাজী কামরুলের যৌথ নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল একটি শক্তিশালী অরাজনৈতিক সংগঠন—“নাগরিক সুরক্ষা কমিটি”। এই কমিটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিগত এক বছর ধরে কোনো প্রকার ব্যক্তিগত ফায়দা ছাড়া এলাকার নানামুখী উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রেখেছে এবং কলোনীবাসীদের যেকোনো বিপদে-আপদে, সামাজিক সুরক্ষায় দিনরাত এক করে দৌড়ঝাঁপ করে আসছে।

উপশহরের এই তীব্র জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়ে নাগরিক সুরক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তর ও প্রশাসনের পেছনে ঘোরার পাশাপাশি যশোরের ঐতিহ্যবাহী পত্রিকা স্ফুলিঙ্গ এর দ্বারস্থ হন। স্ফুলিঙ্গ এর সাহসী ও নিরপেক্ষ লেখনী এই সমস্যাটিকে জনসম্মুখে নিয়ে আসার পরই মূলত উপজেলা প্রশাসনের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে এই বড় সাফল্য এসেছে।

গতকাল সরজমিনে উপশহর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, একটি বিশালাকার এস্কেভেটর ড্রেনের ভেতরে থাকা বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা শক্ত কাদা ও প্লাস্টিকের বর্জ্য উপড়ে ফেলছে এবং পানি চলাচলের রুটটি সচল করছে। এই পুরো কার্যক্রমটি স্বশরীরে দাঁড়িয়ে তদারকি করছেন ইউপি সদস্য জহির মেম্বার, পারভীন  এবং নাগরিক সুরক্ষা কমিটির কাজী কামরুল ও স্বেচ্ছাসেবকরা।

এ প্রসঙ্গে নাগরিক সুরক্ষা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা নেতৃবৃন্দ অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “কাউকে না কাকে তো এই অবহেলিত জনপদের জন্য সাউন্ড রেইস (আওয়াজ তুলতে) করতেই হতো। আমরা আমাদের মাতৃসম এই এলাকাটিকে আর অন্ধকারের ও নোংরা পরিবেশের মধ্যে দেখতে চাইনি। বিশেষ করে ধন্যবাদ জানাই আমাদের প্রিয় পত্রিকা স্ফুলিঙ্গ কে, যাদের পাতায় সংবাদটি প্রকাশের পরেই আজ এই অল্প অল্প সরকারি সহযোগিতা ও বাজেট আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বুকভরা সাহস জোগাচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এই ড্রেনেজ ব্যবস্থার একটি স্থায়ী ও সিসি ঢালাই কালভার্ট নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।”

৫ নম্বর উপশহর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, কলোনীর প্রতিটি ড্রেন সম্পূর্ণ পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত এবং স্কুল মাঠ ও  চারপাশ পানি মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এস্কেভেটর অভিযান ও নাগরিক সুরক্ষা কমিটির যৌথ স্বেচ্ছাশ্রম কঠোরভাবে বলবৎ থাকবে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *