স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাহফুজ আফজালকে তাঁর বর্তমান কর্মস্থল থেকে আকস্মিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক জরুরি ও দাপ্তরিক আদেশে এই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আইজিপির পক্ষ থেকে জারিকৃত ওই সরকারি আদেশে অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে, বিদায়ী পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ আফজাল ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের অন্য কোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে অবিলম্বে তাঁর বর্তমান পদের সমস্ত দায়িত্বভার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অর্পণ বা হস্তান্তর করবেন এবং আজ ৫ জুনের মধ্যে সরাসরি পুলিশ সদর দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত হয়ে রিপোর্ট করবেন। তবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, জারিকৃত এই বিশেষ সরকারি আদেশে তাঁকে ঝিনাইদহ জেলা থেকে হঠাৎ এভাবে প্রত্যাহার করার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা নেপথ্যের কোনো বিষয়ের কথা স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়নি, যা নিয়ে স্থানীয় ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জন ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য ও উচ্চপদস্থ সূত্র আইজিপির এই বদলি বা প্রত্যাহারের আদেশের বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করেছে। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক, আজ শুক্রবার (৫ জুন, ২০২৬) সকালের মধ্যেই বিদায়ী এসপি মাহফুজ আফজাল জেলা পুলিশের পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে সদর দপ্তরের উদ্দেশ্যে ঝিনাইদহ ত্যাগ করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন। আকস্মিক এই আদেশের পর থেকে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের অভ্যন্তরীণ চেইন অব কমান্ড ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে এক ধরনের বিশেষ সতর্ক অবস্থা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জেলার সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক মহলেও এই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার ঝটিকা অপসারণের বিষয়টি নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে।
উল্লেখ্য, দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংস্কার এবং মাঠপর্যায়ের পুলিশ প্রশাসনকে আরও বেশি গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করার অংশ হিসেবে সম্প্রতি দেশের বেশ কয়েকটি জেলাতেই এমন রদবদল ও প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটেছে। ঝিনাইদহের এই ঘটনার ঠিক এর আগেই দেশের আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা তথা ফেনী, পঞ্চগড় ও মৌলভীবাজার জেলার এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তিন শীর্ষ কর্মকর্তাকে একযোগে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে ক্লোজড করা হয়েছিল। প্রত্যাহৃত হওয়া সেই তিন কর্মকর্তা হলেন—ফেনীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান, পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এবং মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. রিয়াজুল ইসলাম। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ঝিনাইদহের এসপিকেও মাঠ প্রশাসন থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো। ঝিনাইদহের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা পুলিশের বিশেষ নজরদারি ও নিয়মিত আভিযানিক টহল রাজপথে জোরালোভাবে অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।


