স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার উপশহর ইউনিয়নে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উচ্ছেদ অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে নতুন উত্তেজনা। দীর্ঘ ২০ বছর পর উদ্ধার হওয়া জমিকে কেন্দ্র করে এর প্রকৃত মালিক মো. শরীফ আল আমিন শুভকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে গত ১০ মে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী শরীফ আল আমিন (জিডি নং- ৭৭৬)।
স্থানীয় ও জিডি সূত্রে জানা গেছে, উপশহর বিরামপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শরীফ আল আমিনের পৈত্রিক জমিটি গত ২০ বছর ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিলেন যুবলীগ নেতা হাদিউজ্জামান চিমা। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার দাপটে প্রকৃত মালিকরা গত দুই দশকে বহুবার চেষ্টা করেও নিজেদের জমি উদ্ধার করতে পারেননি। অবশেষে গত ১০ মে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে চিমার অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে জমিটি দখলমুক্ত করে।
জমিটি হাতছাড়া হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন হাদিউজ্জামান চিমা ও তার সহযোগীরা। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১০ মে সকালে বিরামপুর গাবতলা মোড় এলাকায় শরীফ আল আমিন অবস্থানকালে বিবাদী হাদিউজ্জামান চিমা (৫০), সুমাইয়া পুতুল (৩৫), রাশেদ (৩০) ও পাপ্পু (৩৬) সহ আরও কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরেন। এসময় তারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং জমি উদ্ধারের ‘শাস্তি’ হিসেবে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন। বর্তমানে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাসুম খান অভিযোগটি আমলে নিয়ে জিডি হিসেবে নথিভুক্ত করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এসআই অনুপ কুমার মন্ডলকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং বিবাদীদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, উচ্ছেদ অভিযানের পর থেকে বিরামপুর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা শেষে জমি উদ্ধার হলেও দখলদার পক্ষের মারমুখী অবস্থানে এলাকায় পুনরায় অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ছবি সংগৃহীত।


