স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় তরুণ ব্যবসায়ী আবু হুরাইরা মিম (২৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এজাহারনামীয় ৪ জনসহ মোট পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে স্থানীয় থানা পুলিশ। আজ শুক্রবার (২২ মে) বিকেলের দিকে ধৃত আসামিদের কঠোর পুলিশি পাহারায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারিক হাকিম তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সরাসরি জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ প্রদান করেন।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে মামলার মূল এজাহারে নাম থাকা ব্যক্তিরা হলেন—ঝিকরগাছা উপজেলার কীর্তিপুর গ্রামের নূর ইসলামের পুত্র আমিনুর ইসলাম, মৃত গোলাম হোসেনের পুত্র ওহিদুল ইসলাম, মল্লিকপুর এলাকার আব্দুল মান্নানের পুত্র বুলু হোসেন, কীর্তিপুরের আব্দুল আলিমের পুত্র রাকিবুল ইসলাম শান্ত এবং হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার সন্দেহে আটককৃত মল্লিকপুর গ্রামের আমজেদ হোসেনের পুত্র জুয়েল হোসেন।
পুলিশ প্রশাসন ও মামলার এজাহারের বিবরণ থেকে জানা গেছে, নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া আবু হুরাইরা মিম ঝিকরগাছা উপজেলার কীর্তিপুর এলাকার একজন স্থায়ী বাসিন্দা এবং স্থানীয় বাজারে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। গত ২০ মে (বুধবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি নিজ বাসস্থান থেকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু পথিমধ্যে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন অর্থাৎ ২১ মে (বৃহস্পতিবার) সকালে কীর্তিপুর এলাকার একটি নির্জন বাঁশবাগানের ভেতর থেকে তাঁর রক্তাক্ত ও নিথর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ক্লু-লেস ও চাঞ্চল্যকর এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মুশফিকুর রহমান ফাহাদ বাদী হয়ে ঝিকরগাছা থানায় অজ্ঞাত ও নামীয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার ডায়েরি এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর পরই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ও মূল রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে পুলিশ প্রশাসন তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার শুরু করে। ভুক্তভোগী মিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের শেষ মুহূর্তের কললিস্ট (সিডিআর) পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করার পাশাপাশি মামলার বাদী, প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী এবং গোপন গোয়েন্দা তথ্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এই পাঁচজনকে সনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়।
ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান এই সফল অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে জানা গেছে যে নিহত ব্যবসায়ী আবু হুরাইরা মিমের সাথে গ্রেপ্তারকৃত এই চক্রের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক পূর্ব শত্রুতা ও বিরোধ চলে আসছিল। সেই চরম বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে পুলিশ সুনিশ্চিত ধারণা করছে। এই বর্বরোচিত খুনের সাথে নেপথ্যে আর কোনো গডফাদার বা ঘাতক জড়িত রয়েছে কিনা, তা পুরোপুরি নিশ্চিত হতে আসামিদের প্রয়োজনে রিমান্ডে নিয়ে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।ছবি সংগৃহীত।

