স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
ঢাকার সাভারের আশুলিয়া থানাধীন এলাকায় এক স্থানীয় ফার্মেসিতে জরুরি ওষুধ কিনতে গিয়ে ১১ বছর বয়সী এক অবুঝ কিশোরী বর্বরোচিত ও পাশবিক ধর্ষণের শিকার হয়েছে। গত বুধবার (১৭ জুন ২০২৬) বিকেলের দিকে আশুলিয়ার একটি স্থানীয় বাজারে এই লোমহর্ষক ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার কথা জানতে পেরে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ধর্ষক ও ফার্মেসি ব্যবসায়ী সিয়াম (৪০)-কে হাতেনাতে আটক করে গণধোলাই (উত্তম-মাধ্যম) দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে বুধবার রাতেই আশুলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেলে ১১ বছর বয়সী ওই শিশুটি তার তীব্র পেটের ব্যথার ওষুধ কেনার জন্য অভিযুক্ত সিয়ামের মালিকানাধীন ফার্মেসিতে যায়। এ সময় দোকানে কোনো কাস্টমার না থাকার সুযোগে এবং শিশুটির সরলতার সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ী সিয়াম তাকে কৌশলে ও ফুসলিয়ে ফার্মেসির ভেতরের একটি গোপন কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে সিয়াম শিশুটিকে জোরপূর্বক অবর্ণনীয় নির্যাতন ও ধর্ষণ করেন। পাশবিকতা শেষে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য এবং পরিবারকে জানালে বড় ধরনের ক্ষতি করার ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে শিশুটিকে ফার্মেসি থেকে বের করে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে এই পৈশাচিক ধর্ষণের বিষয়টি বিস্তারিত খুলে বলে।
ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যে জানাজানি হলে স্থানীয় শত শত ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একজোটে গিয়ে ফার্মেসি ঘেরাও করে অভিযুক্ত সিয়ামকে অবরুদ্ধ করে আটক করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতার গণধোলাইয়ে সিয়াম গুরুতর জখম হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা বিষয়টি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আশুলিয়া থানা পুলিশকে অবহিত করলে আশুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির একটি বিশেষ দল অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধর্ষক সিয়ামকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং তাৎক্ষণিক থানায় নিয়ে আসে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, “একটি ছোট শিশুকে ধর্ষণের খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে পুলিশ অভিযুক্ত সিয়ামকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তবে এলাকাবাসীর গণধোলাইয়ে সে মারাত্মক আহত হওয়ায় তাকে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসার জন্য সাভার উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।” ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটিকে আইনি ও শারীরিক সুরক্ষায় উদ্ধার করে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ডিএমসি) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। এই জঘন্য অপরাধের বিষয়ে থানায় সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে এবং অধিকতর নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীর বিরুদ্ধে পরবর্তী কঠোর আইনগত ও বিচারিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। এদিকে একটি সুরক্ষিত ফার্মেসির ভেতরে দিনে-দুপুরে এমন শিশু নির্যাতনের ঘটনায় পুরো সাভার-আশুলিয়া এলাকায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা। সংগৃহীত প্রতীকী-ছবি ।

