স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি চৌকস দল লোহা কাটার আধুনিক যন্ত্র দিয়ে একটি কাভার্ডভ্যান কেটে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটের এক বিশাল ও দুর্ধর্ষ চালান জব্দ করেছে। উদ্ধারকৃত এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবার আনুমানিক বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। চাঞ্চল্যকর এই মাদক চোরাচালানের ঘটনায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে একটি বিলাসবহুল প্রাইভেটকার ও লবণবাহী কাভার্ডভ্যানসহ আন্তর্জাতিক মাদক কারবারি চক্রের ৫ সক্রিয় সদস্যকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০২৬) দুপুরে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার এলাকায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে এই বিশাল মাদক উদ্ধার অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ কর্তৃক আটককৃত আসামিরা হলেন—সিরাজগঞ্জ জেলার বাসিন্দা ও দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ডভ্যানের মূল মালিক শিপন শেখ, মাদক বহনের কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারের চালক রুবেল, গাড়িতে থাকা ছদ্মবেশী যাত্রী সোহেল রানা, লবণবাহী কাভার্ডভ্যানের চালক মোজাহের শেখ এবং তাঁর সহযোগী হেলপার সুরুজ হোসেন।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান এই অভিযানের রোমহর্ষক ও বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয়। লিবিয়া ও কক্সবাজার সীমান্ত থেকে আসা এই ইয়াবার চালানটি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সীমান্ত এলাকা পার হয়ে একটি বিশেষ প্রাইভেটকারের কড়া নিরাপত্তা ও এস্কটে রাজধানী ঢাকার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথিমধ্যে গোয়েন্দা পুলিশ সন্দেহভাজন ওই প্রাইভেটকারটি গতিরোধ করে চালক ও যাত্রীদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। ডিবির কর্মকর্তাদের সুনিপুণ ও কৌশলগত জিজ্ঞাসাবাদের মুখে একপর্যায়ে প্রাইভেটকারে থাকা আরোহীরা স্বীকার করেন যে, তাঁদের পেছনে আসা একটি সাধারণ লবণবাহী কাভার্ডভ্যানের ভেতরে বিশেষ চেম্বার তৈরি করে ইয়াবার মূল চালানটি পাচার করা হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ তাৎক্ষণিক পদুয়ারবাজার এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে উক্ত লবণবাহী কাভার্ডভ্যানটি আটক করে। পরবর্তীতে কাভার্ডভ্যানের তেলের ট্যাংকার ও বডির বিশেষ অংশ কেটে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ১৬টি বড় প্যাকেট উদ্ধার করা হয়, যার ভেতর থেকে গণনা শেষে ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। পুলিশ সুপার আরও জানান, লবণের আড়ালে চতুরতার সাথে এই মাদক পাচারের মূল গডফাদারদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। আটককৃত ৫ আসামির বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের আইনগত প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জেলা পুলিশ প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। ছবি সংগৃহীত।

