গৃহকর্মী নির্যাতনের দায়ে এএসআই দম্পতি গ্রেপ্তার

গৃহকর্মী নির্যাতনের দায়ে এএসআই দম্পতি গ্রেপ্তার

খুলনা প্রতিনিধি :

খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকায় এক কিশোরী গৃহকর্মীকে সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে গরম কড়াই দিয়ে পুড়িয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালানোর লোমহর্ষক অভিযোগে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) পদমর্যাদার এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্তরা হলেন—সোনাডাঙ্গা থানায় কর্মরত এএসআই সঞ্জয় মিত্র এবং তাঁর স্ত্রী এএসআই পপি মিত্র। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে নির্যাতিত ওই কিশোরী গৃহকর্মীর মা বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করার পরপরই পুলিশ প্রশাসন এই দুই পুলিশ সদস্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখায়। গুরুতর অগ্নিদগ্ধ ও জখম হওয়া ওই কিশোরীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরে সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্ক সংলগ্ন ওই পুলিশ দম্পতির একটি ভাড়া বাসায় এই বর্বরোচিত নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। হাত থেকে অসাবধানতাবশত তরকারি পড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষিপ্ত হয়ে গৃহকর্ত্রী এএসআই পপি মিত্র চুলার গরম কড়াই দিয়ে ওই কিশোরীর মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে নির্মমভাবে ছ্যাঁকা দিতে থাকেন। যন্ত্রণায় মেয়েটি ছটফট করে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে জোরপূর্বক কান ধরে ওঠবস করানো হয়। এই পৈশাচিক দৃশ্য জানালার ফাঁক দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দেখে ফেলেন এবং তাৎক্ষণিক সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশকে অবহিত করেন। প্রতিবেশীরা জানান, এএসআই সঞ্জয় মিত্র ও পপি মিত্র দীর্ঘদিন ধরেই ওই অবুঝ শিশুটিকে নানা অজুহাতে মারধর করতেন এবং উদ্ধারকালে ভুক্তভোগীর শরীরে অসংখ্য পুরোনো আঘাতের চিহ্ন দৃশ্যমান ছিল।

খবর পেয়ে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ বাসা থেকে রক্তাক্ত কিশোরীকে উদ্ধার করে প্রথমে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সেখানে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে দ্রুত তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, নির্যাতনের খবর পেয়ে আজ ভোরে নরসিংদী থেকে খুলনায় ছুটে এসে ভুক্তভোগীর মা থানায় মামলা দায়ের করেন। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, মামলার পরপরই অভিযুক্ত এএসআই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে বিভাগীয় ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্বশীল সদস্য হয়েও এমন পৈশাচিক ও মানবাধিকার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের কারণে খুলনার স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *