স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে ভারত থেকে আমদানিকৃত ট্রান্সশিপমেন্টের সরিষার খৈল অবৈধভাবে অপসারণ ও আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে ৩ আনসার সদস্য, বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী, ট্রাকচালক ও হেলপারসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে একটি বাংলাদেশি ট্রাক জব্দ করার পাশাপাশি চালক ও হেলপারকে আটক করেছে পুলিশ।
আজ শনিবার (২৭ জুন) বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মো. ওবাইদুল মিয়া বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৫ ও ৩৪ ধারায় জালিয়াতি ও পণ্য আত্মসাতের এই মামলাটি রুজু করেন।
মামলার এজাহার ও বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন ভারত থেকে সরিষার খৈল বোঝাই একটি মালবাহী ট্রাক বেনাপোল স্থলবন্দরে প্রবেশ করে। গত ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) ট্রাকটি বন্দরের কেমিক্যাল জোনে অবস্থানকালে সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন আনসার সদস্য এবং বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীর প্রত্যক্ষ যোগসাজশে একটি বাংলাদেশি ট্রাকে অবৈধভাবে ৪০ প্যাকেট সরিষার খৈল স্থানান্তর (লোপাটের উদ্দেশ্যে) করা হয়। পরবর্তীতে সন্দেহ হলে ট্রাকটি ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে নিয়ে পুনরায় ওজন করা হলে আমদানিকৃত ঘোষিত ওজনের তুলনায় ২ হাজার ৭৮৪ কেজি পণ্যের ঘাটতি ধরা পড়ে।
পণ্য ঘাটতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বন্দর কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কেমিক্যাল জোনের সিসিটিভি ফুটেজ নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত নিরাপত্তা কর্মীরা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গেট পাস ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ছাড়াই ট্রাক চলাচল এবং পণ্য অপসারণে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন্দর ও থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে পণ্য অপসারণে ব্যবহৃত বাংলাদেশি ট্রাকটি শনাক্ত করে এবং এর চালক ও হেলপারকে হাতেনাতে আটক করে।
দায়েরকৃত মামলায় ৩ জন আনসার সদস্য, ৪ জন বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী, ট্রাকচালক, হেলপার এবং ওই সময়ে দায়িত্বে থাকা অজ্ঞাতনামা কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অন্য নিরাপত্তাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরকারি গুদাম ও বন্দর এলাকা থেকে পণ্য আত্মসাতের ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটককৃত ট্রাকচালক ও হেলপারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজে সনাক্ত হওয়া আনসার সদস্য ও নিরাপত্তাকর্মীসহ মামলার বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।


