বেনাপোল প্রতিনিধি :
সীমান্তের আন্তর্জাতিক আইন ও পারস্পরিক সৌজন্যের তোয়াক্কা না করে, কথিত ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক পুশব্যাকের এক বড় ধরনের অপচেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে সীমান্তে বাংলাদেশের অতন্দ্র প্রহরী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর প্রতিরোধ ও রাতভর ইস্পাতকঠিন সতর্ক অবস্থানের কারণে বিএসএফের এই পুশইনের প্রাথমিক তৎপরতা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার জয়ন্তীপুর সীমান্তে জড়ো করা শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল রাত থেকে আজ সোমবার (১ জুন, ২০২৬) পর্যন্ত বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের উত্তর পাশের সাদিপুর এবং রঘুনাথপুর সীমান্তে এক নজিরবিহীন টানটান উত্তেজনা ও নিরাপত্তা সতর্কতা বিরাজ করছে।
যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খান সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো অবস্থাতেই এই অবৈধ পুশইন হতে দেওয়া হবে না। বিজিবি সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত থেকেই বিএসএফের এই সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছিল বিজিবি এবং এর পরিপ্রক্ষিতে সাদিপুর ও রঘুনাথপুর সীমান্ত এলাকায় রাতভর বিজিবির টহল ও নজরদারি কয়েক গুণ জোরদার করা হয়। রাতের অন্ধকারে বিজিবির জোরালো ও সতর্ক অবস্থানের মুখে পড়েই মূলত বিএসএফের প্রথম ধাক্কার চেষ্টাটি ব্যর্থ হয়। রাতে বিএসএফ সদস্যরা সাদিপুর খড়ের মাঠ এলাকার সীমান্ত পিলার নম্বর ১৯/এস ৬ এর কাছাকাছি অন্তত ৮ থেকে ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে এবং রঘুনাথপুর সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে আরও শতাধিক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশব্যাকের জন্য জিরো লাইনে এনে জড়ো করে।
বর্তমানে ভারতের জয়ন্তীপুর সীমান্তের বিপরীতে বাংলাদেশের শার্শা উপজেলার সাদিপুর সীমান্ত মাঠের ভারত-বাংলাদেশ শূন্যরেখায় (জিরো লাইনে) এই মানুষগুলো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে অবস্থান করছে। বিজিবি ধারণা করছে, প্রথম দফায় ব্যর্থ হলেও বিএসএফ সীমান্তের যেকোনো পকেট পথ বা অরক্ষিত স্থান দিয়ে এই পুশব্যাকের চেষ্টা পুনরায় চালাতে পারে। এই আশঙ্কা থেকে শুধু বেনাপোলই নয়, বরং যশোর জেলার সামগ্রিক সীমান্ত জুড়েই বিজিবির টহল ও নজরদারি সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিজিবির শীর্ষ কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, আমরা সম্পূর্ণ সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছি, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কাউকে আমাদের ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়ার এই চেষ্টা আমরা সফল হতে দেব না।
সীমান্তের এই জটিল ও স্পর্শকাতর মানবীয় সংকটপূর্ণ বিষয়টি স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য ইতিমধ্যেই বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে কড়া ভাষায় আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। জিরো লাইনে আটকে থাকা মানুষদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং বিএসএফের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানাতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে একটি ব্যাটালিয়ন পর্যায়ের পতাকা বৈঠক (Flag Meeting) অনুষ্ঠিত হওয়ার জোর প্রস্তুতি চলছে। ছবি সংগৃহীত।


