জাকির হোসাইন (তুষার) মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:
মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার বুক চিরে বয়ে চলা একসময়ের প্রাণবন্ত খালটি আজ যেন নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য নীরব আর্তনাদ করছে। ঘোপ বাওর থেকে শুরু হয়ে কাতলাসুরের বিল পর্যন্ত বিস্তৃত এই গুরুত্বপূর্ণ খালটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও অবৈধ দখলে নাব্যতা হারিয়ে বর্তমানে মৃতপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছে। একসময় কৃষি, মৎস্যসম্পদ, নৌ-যোগাযোগ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা খালটি আজ সংকুচিত হয়ে অনেক স্থানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্যমতে, কয়েক দশক আগে এই খাল ছিল মহম্মদপুর অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। বর্ষাকালে খালটি বিভিন্ন বিল, বাওর ও জলাশয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। পাশাপাশি শুকনো মৌসুমে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করত। খালের দুই পাড়ের হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা এই জলধারার ওপর নির্ভরশীল ছিল।
ইতিহাসের পাতায়ও খালটির রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘব ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই খালের গুরুত্ব অনুধাবন করেছিলেন। শুধু নির্দেশনা দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং খাল খনন কার্যক্রমে নিজেও অংশগ্রহণ করেছিলেন বলে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রচলিত রয়েছে। ফলে খালটি শুধু একটি জলপথ নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক স্মৃতি ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়ে আসছে।
কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটির অধিকাংশ অংশ অবৈধ দখলদাররা মাটি ফেলে ভরাট করে ফেলেছে, ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের কারণে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরিবেশগত ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় কৃষক, মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের দাবি, খালটি পুনঃখনন করা হলে শুধু পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে না, বরং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্যসম্পদের উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে পুনরুদ্ধার হবে এলাকার একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা ও স্মৃতিচিহ্ন।
এলাকাবাসী জানান, খালটি পুনঃখননের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে দাবি জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা মনে করেন, সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে খালটিকে আবারও জীবন্ত করে তোলা সম্ভব।
মহম্মদপুরের সচেতন নাগরিকরা আশা প্রকাশ করে বলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী মহম্মদপুরের এই ঐতিহাসিক ও জনজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত খালটির গুরুত্ব অনুধাবন করে পুনঃখননের বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করে খালটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে এবং সংরক্ষণ করা হবে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব।ছবি প্রতিবেদক।


