ঝিনাইদহে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ : নিহত ১

ঝিনাইদহে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ : নিহত ১

মোঃ মাসুদ রানা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :

পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুতে মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানোর মতো এক অতি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই মারামারির জেরে দেলোয়ার হোসেন (৪০) নামের এক কৃষক চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। আজ শুক্রবার (২৯ মে, ২০২৬) ভোরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত দেলোয়ার হোসেন হরিণাকুন্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামের খয়বার মন্ডলের ছেলে। এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের আরও অন্তত ৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ঈদের দিন বিকেলে হরিণাকুন্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামের বরইতলা মাঠের মধ্যে মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত হয়। হর্ন বাজানোকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী পাখিমারা গ্রামের লাল্টুর সাথে হরিশপুর গ্রামের শুভ হোসেনের মধ্যে প্রথমে তীব্র বাকবিতণ্ডা এবং পরবর্তীতে হাতাহাতি হয়। এই ঘটনার খবর দুই গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বরইতলা মাঠে এসে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় চলা এই মারামারিতে হরিশপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, আবু তালেব এবং পাখিমারা গ্রামের মশা ফকির, মাহবুব, বাদশাসহ দুই পক্ষের অন্তত ৮ জন রক্তাক্ত জখম হন।

সংঘর্ষের পর পরই স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেশ কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুতর আহত কৃষক দেলোয়ার হোসেনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে এবং আবু তালেব নামে আরেকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরবর্তীতে আজ সকালে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন দেলোয়ার হোসেন।

হরিণাকুন্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসিত কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানোকে কেন্দ্র করেই এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে এলাকায় কিছুটা থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। ওসি আরও জানান, এই সহিংসতা ও মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত মামলা দায়ের করা হয়নি; তবে মামলা প্রাপ্তি সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহতের স্বজনরা, ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *