ছাত্রনেতা রাশেদের বাড়িতে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

ছাত্রনেতা রাশেদের বাড়িতে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোর শহরের খোলাডাঙ্গা কদমতলা মোড় এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ সংগঠক ও ছাত্রনেতা রাশেদ খানের পৈত্রিক বসতবাড়িতে প্রতিবেশীদের বর্বরোচিত হামলা, জখম ও প্রাচীর ভাঙচুরের ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকারের উচ্চমহল। সন্ত্রাসী হামলার শিকার ওই ছাত্রনেতার পরিবারের খোঁজখবর নিতে  ছুটে গেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এবং যশোর-৩ (সদর) আসনের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য জনাব অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে তিনি যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর কোনো প্রকার প্রটোকল বা কালক্ষেপণ না করে সরাসরি খোলাডাঙ্গা এলাকায় রাশেদ খানের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হন।

সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় মাননীয় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত রাশেদ খানের বসতবাড়ির ভাঙচুর হওয়া সীমানা প্রাচীর এবং প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পৈত্রিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ঘুরে দেখেন। এরপর তিনি রাশেদ খানের মা, বোনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে একান্ত বৈঠকে বসেন এবং গত ২৫ মে রাতের সেই হামলার আদ্যোপান্ত শোনেন। ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী রাশেদের পরিবারকে বুকে টেনে নেন এবং তাঁদের বর্তমান মানসিক ও পারিপার্শ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে তাৎক্ষণিক কথা বলেন।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে পূর্ণ আইনি সুরক্ষার শতভাগ নিশ্চয়তা প্রদান করে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “একটি স্বাধীন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। অন্যায়কারী ও হামলাকারী যেই হোক না কেন, সে যে রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয়েরই হোক, তাকে কোনো অবস্থাতেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।” এ সময় তিনি পরিদর্শনে আসা যশোর জেলা প্রশাসন ও কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সুনির্দিষ্ট তদন্ত করতে হবে এবং ঘটনার মূল হোতাদের অনতিবিলম্বে অবরুদ্ধ করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সাথে তিনি রাশেদের পরিবারকে কোনো প্রকার ভয়ভীতি বা হুমকি উপেক্ষা করে দেশের প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখার বিশেষ পরামর্শ প্রদান করেন।

গত ২৫ মে রাতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিবেশী মনা, ইমন, জুলি খাতুনসহ একদল উগ্র ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হামলাকারী কুড়াল ও ধারালো দা নিয়ে রাশেদ খানের বাড়ির সামনের দোকানে হামলা চালায়। প্রতিবাদ করায় ছাত্রনেতা রাশেদ খানকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয় এবং তাদের দোকান ও দেয়াল ভেঙে ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়। ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকা জুড়ে এক তীব্র আতঙ্ক ও অস্থিরতা বিরাজ করছিল।

পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির পর থেকেই পুলিশের বিশেষ আভিযানিক দল কাজ শুরু করেছে। প্রতিমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার পর মামলার তদন্তের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত প্রতিবেশী মনা ও ইমনসহ বাকি আসামিরা এলাকা ছেড়ে সুকৌশলে আত্মগোপন ও পলাতক রয়েছে।  [ছবি সংগৃহীত]

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *