ঝিকরগাছায় ‘মমিন বাহিনী’র রাজত্ব !

ঝিকরগাছায় ‘মমিন বাহিনী’র রাজত্ব !

নিজস্ব প্রতিবেদক:

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নে সুদখোর, চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাংয়ের যৌথ অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা এই অপরাধী চক্রের ভয়ে পুরো ইউনিয়ন জুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এই চক্র, ফলে প্রতিকার চেয়েও কোনো ফল পাচ্ছে না নিরীহ মানুষ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পানিসারা ইউনিয়নের বর্ণি বাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সুদখোর সিন্ডিকেট। এই চক্রের মূল হোতা আব্দুল মমিন দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সুদের কারবার চালিয়ে আসছে। সুদের টাকা তুলতে ও এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মমিন নিজস্ব একটি ‘কিশোর গ্যাং’ বাহিনী গড়ে তুলেছে। প্রথমে সাধারণ মানুষকে চড়া সুদে ঋণের জালে আবদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে ঋণের টাকা তুলতে ব্যর্থ হলে কিশোর গ্যাং দিয়ে জীবননাশের হুমকি, বাড়িঘর ভাঙচুর, জমি জোরপূর্বক লিখে নেওয়া এবং গোয়াল ঘরের গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি ও ঘেরের মাছ লুটপাটের মতো ঘটনা ঘটায় মমিন ও তার বাহিনী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বর্ণি গ্রামের মোজফ্ফর নামের এক ব্যক্তি সুদখোর মমিনের কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক রেখে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নেন এবং তা যথাসময়ে পরিশোধও করেন। কিন্তু পরবর্তীতে নানা কৌশলে মোজফ্ফরের বন্ধু গোলাম মোর্তজাকে অবান্তর ঋণের জালে ফেলার চেষ্টা করে মমিন। গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় বর্ণি তালতলা এলাকায় মমিন ও তার কিশোর গ্যাং গোলাম মোর্তজার গতিরোধ করে এবং ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের খুন করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনায় গোলাম মোর্তজা বাদী হয়ে ঝিকরগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

শুধু গোলাম মোর্তজাই নয়, গত ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর মমিন বাহিনী এলাকায় নতুন করে চাঁদাবাজি শুরু করে। চক্রটির চাঁদাবাজির শিকার হয়ে এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিত্ব নফিরুদ্দি ও শের আলীসহ অনেকেই লাখ লাখ টাকা খুইয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী গোলাম মোর্তজা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি থানায় মামলা করার জন্য লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু পুলিশ এই কিশোর গ্যাং ও সুদখোরদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে আব্দুল মমিনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার দোকানের এক কর্মচারী জানান, মমিন দোকানে নেই এবং ফোন রেখে কোথাও বের হয়েছেন।

এদিকে, লিখিত অভিযোগের পরও মামলা রেকর্ড না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ঝিকরগাছা থানার এসআই অহিদুজ্জামান উল্টো বিবাদীদের পক্ষ নিয়ে বলেন, “ভাই, এটা ছোটখাটো বিষয়, মামলার বিষয় না। আমি বিবাদীর সাথে দেখা করেছি। সময় করে দু-পক্ষকে ডেকে মীমাংসা করে দেব।” পুলিশের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যে ক্ষোভ আরও বাড়ছে স্থানীয় সচেতন মহলে।

ফাইল ছবি।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *