অবশেষে সেই ধর্ষক কবিরাজ আটক

অবশেষে সেই ধর্ষক কবিরাজ আটক

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের ঝিকরগাছায় বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার একমাত্র আসামি কথিত কবিরাজ আব্দুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৫ মে) মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঝিকরগাছা থানায় নিয়ে আসা হয়।
পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে এসআই পলাশ দাস ও এসআই তাপস কুমার রায়ের নেতৃত্বে একটি দল টানা দুই দিন অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজালাল আলম জানান, বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী তরুণী ধর্ষণ ও সন্তান প্রসবের বিষয়টি জানার পর তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে গত ১২ মে ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত আব্দুর রহমান বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ১২ মে রাতে অভিযুক্ত নাভারণ এলাকায় অবস্থান নেয় এবং পরদিন সকালে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার জামাইবাড়িতে আত্মগোপন করে। এ সময় সে নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে নতুন একটি বাটন ফোন ব্যবহার করছিল এবং জামাইয়ের সিম ব্যবহার করছিল। এছাড়া সৌদি আরবে থাকা ছেলের কাছে পালিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করছিল বলে জানতে পারে পুলিশ।
ওসি শাহজালাল আলম বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আদালতে আসামির ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করা হবে।”
আসামি গ্রেফতারের খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা। তারা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আমরা চাই নিষ্পাপ শিশুটি তার পিতার পরিচয় পাক এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক।”
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে কোনো একসময় পান খাওয়ানো ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কথিত কবিরাজ ও ইমাম আব্দুর রহমান নিজ বাড়িতে ওই তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। কয়েক মাস পর তরুণীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি গর্ভবতী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তরুণী পরিবারের সদস্যদের জানান, “হুজুর” তার সঙ্গে খারাপ কাজ করেছে।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে শালিস হলেও প্রভাবশালীরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গর্ভপাতের পরামর্শ দেয় এবং মামলা না করতে ভয়ভীতি দেখায়। পরে গত ১৯ মার্চ ২০২৬ তরুণী একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *