স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
দেশের তরুণ সমাজকে ধূমপানের মরণঘাতী ছোবল থেকে রক্ষা করতে এবং সরকারের রাজস্ব বাড়াতে সিগারেটের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে তামাকবিরোধী দুটি শীর্ষ সংগঠন। সোমবার (১১ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এবং ইউনাইটেড ফোরাম অ্যাগেইনস্ট টোব্যাকো আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রতি শলাকা সিগারেটের সর্বনিম্ন দাম ১৭ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা করার এই প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সিগারেটকে চারটি স্তরে ভাগ করে নতুন মূল্য নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত মূল্যকাঠামো নিচে দেওয়া হলো:
-
প্রিমিয়াম স্তর: প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের খুচরা মূল্য ২০০ টাকা। কর ও শুল্ক যোগ হয়ে প্রতিটি সিগারেটের দাম পড়বে ৩৫ টাকা।
-
উচ্চ স্তর: ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করার প্রস্তাব। এতে প্রতিটি সিগারেটের দাম পড়বে ২৫ টাকা ৪৫ পয়সা।
-
মাঝারি ও নিম্ন স্তর: এই দুটি স্তরের প্যাকেটের দাম (৮০ ও ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে) ১০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতিটি সিগারেটের দাম পড়বে ১৭ টাকা ১ পয়সা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, তামাকের কর কাঠামো সহজ করা এবং দাম বাড়ানো হলে লক্ষাধিক তরুণ ধূমপান থেকে বিরত থাকবে। তারা সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশে ক্যানসার, হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত অকাল মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ তামাকজাত পণ্য। দাম বাড়লে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে তামাক, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করলে সিগারেট থেকে সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা ব্যয় হ্রাস পাওয়ায় জাতীয় অর্থনীতির ওপর চাপ কমবে। ইন্টারনেট থেকে ছবিটি সংগৃহীত।

