স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর উপশহরের সরকারি জমিতে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চালানো বিশাল উচ্ছেদ অভিযানের পর এবার বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল। দীর্ঘদিন ‘হরিহর আত্মা’ হিসেবে পরিচিত উপশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা এহসানুর রহমান লিটু এবং যুবলীগ নেতা মনসুর আলমের মধ্যে শুরু হয়েছে প্রকাশ্য কাদা ছোড়াছুড়ি। ৫ আগস্টের পর থেকে দুজনেই পলাতক থাকলেও ‘স্ফুলিঙ্গ’-এর ভিডিও কমেন্ট বক্সে চেয়ারম্যান লিটুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন মনসুর।
হাউজিং কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক উচ্ছেদ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে পলাতক যুবলীগ নেতা মনসুর আলম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেছেন, বর্তমানে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি হারানোর প্রধান কারণ হলো ‘অমানুষ’ ও ‘সুদখোর’ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা এহসানুর রহমান লিটু। তার দাবি, উপশহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লিটু হাউজিংয়ের ইঞ্জিনিয়ার তুহিনের সাথে যোগসাজশ করে একের পর এক অবৈধ প্লট তৈরি করে বিক্রি করেছেন।
মনসুরের সেই মন্তব্য হুবহু নিচে তুলে ধরা হলো:
“সুদখোর লিটু এই প্লটগুলো বানিয়েছে তুহিন ইঞ্জিনিয়ারের দিয়ে। বি-ব্লক বাজারে আওয়ামীলীগ অফিসের পিছনের বাড়ি সাবেক প্রেসিডেন্ট সুমন (সুদখোর লিটুর ভাগ্নে)র কাছে দালালি করে বিক্রি করেছে লিটু নিজেই। সাধারণ মানুষ উপশহরের বাড়িঘর বা জমি-জায়গা বিক্রয় করতে গেলে সুদখোর লিটুকে বড় অঙ্কের টাকা চাঁদা দেওয়া লাগতো এবং বি ব্লক খালপাড় বস্তি উচ্ছেদ করে চার-পাঁচটি প্লট বানিয়েছে ইঞ্জিনিয়ার তুহিনকে দিয়ে। সি ব্লক কাজী আলাউদ্দিনের বাড়ির পাশে ও সরোয়ারের বাড়ির পশ্চিম পাশে প্লট বানিয়েছে এই সুদখোর লিটু এবং ইউনিয়ন পরিষদের পিছনে দফাদার পাড়ায় প্লট গুলো তার প্রত্যক্ষ মদদে তৈরী করা হয়। ই ব্লক ও এফ ব্লক অনেক বাড়ির পাশে পকেট প্লট তৈরী করেছে সুদখোর লিটু নিজে ইঞ্জিনিয়ার তুহিনকে দিয়ে। বর্তমানে অসহায় ভূমিহীন মানুষের হয়রানির প্রধান কারণ এই অমানুষ সুদখোর লিটু।”
মনসুরের দাবি অনুযায়ী, এই বিশাল অবৈধ বাণিজ্যের সাথে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ইঞ্জিনিয়ার তুহিন ছাড়াও কর্মকর্তা জিয়ার সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল। তাদের মদদেই উপশহরের বিভিন্ন ব্লকে পকেট প্লট তৈরি করে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।
এদিকে ঘর হারানো ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, তারা এসব জমি বা ঘর পাওয়ার জন্য লিটু সিন্ডিকেটকে বড় অংকের টাকা দিয়েছিলেন। ৫ আগস্টের পর এই প্রভাবশালী নেতা গা ঢাকা দিলেও উচ্ছেদ অভিযানে এখন সর্বস্বান্ত হয়েছে সাধারণ মানুষ। তারা বলছেন, “টাকা খেলেন তারা, আর আজ খোলা আকাশের নিচে থাকতে হচ্ছে আমাদের।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ক্ষমতার ছায়াতলে থেকে যে লিটু-মনসুর জুটি উপশহর নিয়ন্ত্রণ করত। বিশেষ করে মনসুরের এই বিস্ফোরক মন্তব্য এলাকায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পলাতক অবস্থায় থেকেও এই দুই নেতার দ্বন্দ্বে উপশহরের সাধারণ মানুষের মনে চাঞ্চল্যকর সব তথ্যের জট খুলতে শুরু করেছে।
উচ্ছেদ অভিযান নিয়মিত চলবে বলে জানিয়েছে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, শুধু উচ্ছেদ নয়, যারা অর্থের বিনিময়ে এসব অবৈধ প্লট বরাদ্দ দিয়েছিল, সেই সব রাঘববোয়ালদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। ছবি সংগৃহীত।


