স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঝাপার বাওরের ওপর নির্মিত দেশের প্রথম ও আলোচিত সেই ভাসমান ‘ড্রাম সেতু’টি কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলের প্রলয়ংকরী ঝড়ে সেতুটির একটি বিশাল অংশ মূল কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বাওরের পানিতে ভেসে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে হঠাৎ শুরু হওয়া ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ এতই বেশি ছিল যে, ভাসমান এই কাঠামোর ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। পানির তীব্র ঢেউ আর বাতাসের চাপে প্লাস্টিকের ড্রাম ও লোহার সিটের মধ্যকার সংযোগস্থলগুলো ছিঁড়ে যায়। চোখের পলকেই সেতুর একটি বড় অংশ পানির তোড়ে দূরে ভেসে যেতে দেখেন পাড়ের বাসিন্দারা।
ব্যতিক্রমী এই ভাসমান সেতুটি চালুর পর থেকেই এটি কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং সারা দেশের মানুষের কাছে একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্পট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী বাওরের ওপর এই ‘ড্রাম সেতু’ দেখতে ভিড় করতেন। আজকের এই ক্ষয়ক্ষতির ফলে বাওরের দুই পাড়ের হাজারো মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্রটি এখন স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
ঝড়ে সেতুটি ভেঙে পড়ার পেছনে জরাজীর্ণ অবস্থাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের পুরনো লোহার পাইপ ও পাটাতনে মরিচা ধরলেও কর্তৃপক্ষ তা স্থায়ীভাবে সংস্কার করেনি। নিয়মিত জোড়াতালি দিয়ে সেতুটি সচল রাখা হয়েছিল বলেই আজ কালবৈশাখীর প্রথম আঘাতেই এটি ভেঙে পড়ল।
জনপ্রিয় এই পর্যটন কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মণিরামপুরের মানুষের মাঝে এখন বিষণ্ণতা বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই সেতুটি পুনরায় সংস্কারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। দ্রুত এটি মেরামত করা না হলে দুই পাড়ের বাসিন্দাদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে। ছবি সংগৃহীত।


