জ্বালানি সংকটের প্রভাব যশোরে : দিনে-রাতে সমানতালে বিদ্যুৎ বিভ্রাট !

জ্বালানি সংকটের প্রভাব যশোরে : দিনে-রাতে সমানতালে বিদ্যুৎ বিভ্রাট !

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

চৈত্র-বৈশাখের তপ্ত রোদে পুড়ছে যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। এরই মধ্যে গত দুদিন ধরে জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে দফায় দফায় লোডশেডিং। দিনে ও রাতে সমানতালে বিদ্যুৎ যাওয়া-আসায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা।

যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকা ও মফস্বল থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের মাত্রা আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়েছে। ঘনঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কলকারখানার মালিকরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পেয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

সামনে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক ও বিভিন্ন পরীক্ষা থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ছাত্র-ছাত্রীরা। একজন অভিভাবক জানান, “গরমে ঘরে টেকা যাচ্ছে না, তার ওপর ঘনঘন বিদ্যুৎ গেলে বাচ্চারা পড়বে কীভাবে? বিদ্যুৎ গেলেই ল্যাপটপ বা ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ফলে অনলাইন পড়াশোনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।” একই অবস্থা জেলার বাঘারপাড়া, শার্শা ও মণিরামপুর উপজেলাগুলোতেও।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও বকেয়া বিলের কারণে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ মিলছে না। চলতি গরমে সারা দেশে চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জ্বালানির ঘাটতি পূরণ না হলে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে এই সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে।

যশোরের সচেতন নাগরিক সমাজ বলছেন, প্রতি বছর গরম এলেই লোডশেডিংয়ের এই চিত্র ফিরে আসে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী কোনো সমাধান মিলছে না। একদিকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনেও গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্ন সেবা পাচ্ছেন না, অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্ম স্থবির হয়ে পড়ছে।

এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকি ছবি।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *