বাসের চালক-হেলপারদের ডোপ টেস্ট শুরু! চুয়াডাঙ্গায় মাদকমুক্ত গণপরিবহন গড়তে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ

বাসের চালক-হেলপারদের ডোপ টেস্ট শুরু! চুয়াডাঙ্গায় মাদকমুক্ত গণপরিবহন গড়তে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং মাদকমুক্ত সুশৃঙ্খল গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় এক নজিরবিহীন কঠোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্রশাসন। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের বিশেষ আয়োজনে এবং স্থানীয় পরিবহন মালিক সমিতির সার্বিক সহযোগিতায় জেলার বিভিন্ন দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী বাস চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারদের বাধ্যতামূলক ‘ডোপ টেস্ট’ (মাদক পরীক্ষা) কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

গত বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) সকাল থেকেই চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন গণপরিবহনের চালক ও কর্মীদের এনে এ মাদক পরীক্ষা শুরু করা হয়।

পুলিশ প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ডোপ টেস্টে যদি কোনো চালক, সুপারভাইজার বা হেলপারের শরীরে মাদকসেবনের প্রমাণ মেলে, তবে তাঁকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সাথে সাথে চাকরিচ্যুত করাসহ প্রচলিত আইনে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রয়েল এক্সপ্রেস, পূর্বাশা পরিবহন, জে আর পরিবহন, চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স, দর্শনা ডিলাক্স, গোল্ডেন লাইন, জননী, নদীয়া, সাথী পরিবহন, রেখা পরিবহন, মামুন পরিবহন, শামীম এন্টারপ্রাইজ, নিউ মডার্ন পরিবহন, সৌদিয়া পরিবহন ও বিআরটিসিসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বাসের কর্মীদের পর্যায়ক্রমে এ পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে।

ডোপ টেস্টের পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক ও যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গণপরিবহন সংশ্লিষ্টদের বেশ কিছু জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়—দূরপাল্লার বাসে নির্ধারিত সময় পরপর চালক পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হবে, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়া কোনো চালককে টানা দীর্ঘ সময় গাড়ি চালাতে দেওয়া যাবে না। শারীরিক ও মানসিকভাবে শতভাগ সুস্থ নিশ্চিত হওয়ার পরই চালককে স্টিয়ারিংয়ে বসতে দিতে হবে। মাদকাসক্ত, অসুস্থ কিংবা ক্লান্ত অবস্থায় কোনো চালককে গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া যাবে না। অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ওভারটেকিং ও ঝুঁকিপূর্ণ ড্রাইভিং সম্পূর্ণ পরিহার করে সকল ট্রাফিক আইন ও সড়ক নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এই শৃঙ্খলারক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান বলেন, “মাদকাসক্ত অবস্থায় যানবাহন চালানো কেবল আইন অমান্য নয়, এটি হাজারো নিরীহ যাত্রীর জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলার শামিল। চুয়াডাঙ্গার সড়কগুলোকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখতে নিয়মিত ডোপ টেস্ট ও এই সংক্রান্ত তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসন ও চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পরিবহন সেক্টরের সকল মালিক, শ্রমিক ও কর্মীদের মাদকমুক্ত থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জোর আহ্বান জানানো হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *