স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের বাধ্যতামূলক অনুমতি ও তদারকি ছাড়াই আইন অমান্য করে যশোর স্যানিটারি ও নলকূপ ব্যবসায়ী মালিক কল্যাণ সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন আয়োজনের এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিবন্ধন থাকা সত্ত্বেও প্রথাগত আইনি ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়াকে তোয়াক্কা না করে গত শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) এই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনাকে সম্পূর্ণ গঠনতন্ত্রবিরোধী ও বেআইনি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর।
সমাজসেবা দপ্তরের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি নিবন্ধনপ্রাপ্ত যেকোনো পেশাজীবী বা সামাজিক সংগঠনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্বে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের লিখিত অনুমোদন গ্রহণ, সরকারি প্রতিনিধি বা প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ এবং সরাসরি অধিদপ্তরের মনিটরিংয়ে ভোট পরিচালনা কিংবা অ্যাডহক কমিটি গঠন করা বাধ্যতামূলক। এমনকি কোনো সংগঠন দীর্ঘমেয়াদে নিষ্ক্রিয় থাকলে তা বিলুপ্ত করে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের এখতিয়ারও রয়েছে এই অধিদপ্তরের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২২ সালে সরকারি নিবন্ধন (নম্বর- ১৬৮৮/২২) লাভ করা এই সমিতিটি আইনি বাধ্যবাধকতার কোনো তোয়াক্কা না করে নিজেদের পছন্দের তিন সদস্যের একটি অভ্যন্তরীণ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করে তড়িঘড়ি ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করে। এ নির্বাচনে সিরাজ মোল্যা সভাপতি এবং মঈনুদ্দীন বাবলু সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হন।
সমিতির একাধিক সাধারণ সদস্য গোপনীয়তা বজায় রাখার শর্তে জানান, কতিপয় ব্যক্তি নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতেই সরকারি নিয়ম-নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই বেআইনি নির্বাচনের নাটক সাজিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য মোস্তাক হোসেন শিম্বা জানান, নির্বাচন তিন সদস্যের কমিটির মাধ্যমেই পরিচালিত হয়েছে। তবে সমাজসেবা দপ্তরকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছিল কি না, সে দায় বিদায়ী কমিটির ওপর চাপান তিনি।
অন্যদিকে, বিজয়ী সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দীন বাবলু নির্বাচনের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের লিখিত অনুমতি ছিল বলে দাবি করেন।
তবে নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদকের এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জেলা সমাজসেবা অফিসার (রেজিস্ট্রেশন) মো. আব্দুল কাদের। তিনি স্পষ্ট জানান, সংগঠনটি বেশ কিছুদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকায় জবাব চেয়ে শোকজ চিঠি পাঠানো হয়েছিল, যার কোনো ব্যাখ্যা তারা দেয়নি। অধিদপ্তরকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে ও কোনো তদারকি ছাড়া আয়োজিত এই তথাকথিত ভোটগ্রহণ ও নবগঠিত কমিটি আইনের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ অবৈধ ও বাতিলযোগ্য।
বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ইকবাল কবিরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ছবি সংগৃহীত।


