স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
সিলেটের বিশ্বনাথে এক কলোনি মালিকের বিরুদ্ধে তার ৫০ বছর বয়সী এক নারী ভাড়াটিয়াকে টানা আট দিন ঘরে অবরুদ্ধ করে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণের লোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পরপরই পুলিশ তৎক্ষণাৎ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বাড়িওয়ালা নুর উদ্দিনকে (৫০) গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত নুর উদ্দিন বিশ্বনাথ পৌর শহরের নিকটবর্তী জানাইয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি পৌর এলাকায় কলোনি তৈরি করে বিভিন্ন পরিবারের কাছে ঘর ভাড়া দিয়ে আসছিলেন, যেখানে ভুক্তভোগী নারীও বসবাস করতেন।
মামলার আনুষ্ঠানিক এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুলাই কাজের কথা বলে ভুক্তভোগী নারীকে সুকৌশলে নিজের ব্যক্তিগত বাসগৃহে ডেকে নেন কলোনি মালিক নুর উদ্দিন। সেখানে পৌঁছানোর পর থেকেই ওই নারীকে প্রাণনাশের নানা ধরণের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে একটি কক্ষে টানা আট দিন আটকে রাখা হয় এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়।
পরবর্তীতে গত ১০ জুলাই সুচতুর উপায়ে আসামির চোখ ফাঁকি দিয়ে ওই ঘর থেকে কৌশলে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন ভুক্তভোগী নারী। অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হয়ে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের শরণাপন্ন হন এবং তাদের প্রাথমিক সহায়তায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করেন। শারীরিক ও মানসিকভাবে কিছুটা সুস্থ বোধ করার পর তিনি শুক্রবার বিশ্বনাথ থানায় উপস্থিত হয়ে আইনি পদক্ষেপ নেন।
বিশ্বনাথ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনোজ প্রভাকর রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অপরাধের শিকার ওই নারীকে উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত নুর উদ্দিনকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রতীকী-ছবি সংগৃহীত।


