দুই কন্যা সন্তানকে ফেলে পালালেন মা : খাবার দিলেও শোকে কিছুই মুখে তোলেনি দুই শিশু

দুই কন্যা সন্তানকে ফেলে পালালেন মা : খাবার দিলেও শোকে কিছুই মুখে তোলেনি দুই শিশু

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলায় এক চরম হৃদয়বিদারক ও নির্মম ঘটনার সাক্ষী হয়েছে স্থানীয় জনতা। ‘তোমরা এখানে একটু বসো, আমি টাকা নিয়ে আসছি’— অবুঝ দুই কন্যাসন্তানকে এই সান্ত্বনা দিয়ে রাস্তার পাশে বসিয়ে রেখে চিরতরে নিখোঁজ হয়ে গেছেন এক মা। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও জন্মদাত্রী মা ফিরে না আসায় বুকফাটা আর্তনাদে ভেঙে পড়ে অসহায় শিশু দুটি। আজ রবিবার (১৯ জুলাই ২০২৬) দুপুরে হিলি বন্দরের ৪ নম্বর গেট সংলগ্ন থানা মোড় এলাকায় এই করুণ দৃশ্য দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, সকাল আনুমানিক দশটার দিকে হিলি বন্দরের চার নম্বর গেটের পাশে একটি কার্যালয়ের বারান্দায় দুটি ছোট মেয়েকে একা বসে অঝোরে কাঁদতে দেখেন তিনি। কৌতূহলবশত এগিয়ে গিয়ে কান্নার কারণ জানতে চাইলে শিশুরা জানায়, তাদের মা ছোট ভাইকে কোলে নিয়ে কোথাও চলে গেছেন। যাওয়ার প্রাক্কালে তাদের এখানে অপেক্ষা করতে বলে গেছেন এবং জানিয়েছেন তিনি টাকা আনতে যাচ্ছেন। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হলেও মায়ের দেখা মেলেনি। স্থানীয়রা শিশুদের শান্ত করতে খাবার কিনে দিলেও মায়ের শোকে তারা কিছুই মুখে তোলেনি। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হিলি থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে শিশু দুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, নিখোঁজ দুই বোনের নাম জিমি ও জান্নাতি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তাদের আদি বাড়ি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায়। অভাব-অনটনের এই সংসারে তাদের বাবা জীবন চরম মাদকাসক্ত এবং বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। সংসারে চরম দারিদ্র্যের কারণে মা শাহনাজ বেগম হয়তো এমন নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন এবং ছোট সন্তানকে সাথে নিয়ে বড় দুই মেয়েকে ফেলে গেছেন।

ওসি আরও নিশ্চিত করেন যে, শিশু দুটির দাদা-দাদি এখনও জীবিত আছেন। ইতিমধ্যে পুলিশ তাদের পরিবারের মূল ঠিকানা খুঁজে বের করেছে এবং শিশুদের নিরাপদে তাদের দাদা-দাদির কাছে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া চলছে। একই সাথে, সন্তানদের এভাবে ফেলে যাওয়ার কারণ উদঘাটন এবং তাদের মায়ের অবস্থান শনাক্ত করতে পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *