স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
রাজধানীর মতিঝিল, কমলাপুর, মালিবাগ ও মগবাজারসহ আশপাশের এলাকায় আন্ডারওয়ার্ল্ডের রাজত্ব কায়েম করা এবং নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মূলহোতা তানিম রেজা ওরফে বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাপ্পি ইন্টারপোল ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তাঁর অবৈধ অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত।
গতকাল শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) রাতে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও মতিঝিল থানা-পুলিশের একটি যৌথ চৌকস দল এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত তানিম রেজা বাপ্পির বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হত্যাচেষ্টা, অস্ত্রের মহড়া, অবৈধ চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনের অন্তত সাতটি গুরুতর মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ছদ্মবেশে গ্রেপ্তার এড়িয়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের কার্যক্রম চালাচ্ছিল। তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কোরবানির পশুর হাটের ইজারা-কেন্দ্রিক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও ব্যবসায়ীদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ রয়েছে।
মতিঝিল থানা সূত্র জানায়, এজাহারভুক্ত সাতটি মামলার বাইরেও রাজধানীর আরও বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর অপরাধের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। বিশেষ করে মতিঝিল, মগবাজার, মালিবাগ ও কমলাপুরসহ আশপাশের এলাকায় যেসব বড় বড় অপরাধের ঘটনায় আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের নাম এসেছে, সেসব ঘটনার মাঠপর্যায়ের প্রায় সবকটির সাথে তানিম রেজার প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক ঈদুল আজহার আগে দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের ইজারাদার ইসমাইল হোসেনের কার্যালয় লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে দিনের আলোয় গুলি ছোড়ার ঘটনায় মতিঝিল থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তেও তানিম রেজার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে ডিবি পুলিশ।
মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,”ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও মতিঝিল থানা-পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের মূল সহযোগী তানিম রেজা বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তার চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে এবং অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান পেতে আজ শনিবার (১৮ জুলাই) তাকে আদালতে সোপর্দ করে জোরদার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে।”
বাপ্পি গ্রেপ্তারের এই খবরে মতিঝিল ও কমলাপুর এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ী এবং বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পুলিশ তার আন্ডারওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্ক পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিতে তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়েছে। ছবি সংগৃহীত।


