স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের চৌগাছা থানা পুলিশের চলমান মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ড্রাগন ফলের ক্ষেতের আড়ালে নিষিদ্ধ মাদক চাষের এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। ড্রাগন বাগানের ভেতর থেকে ২ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের একটি আস্ত কাঁচা গাঁজার গাছসহ মো. নান্নু মিয়া (৫০) নামের এক চাষিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) রাত ৯টা ৪০ মিনিটের সময় চৌগাছা থানাধীন গুয়াতলী (কারিগরপাড়া) গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত নান্নু মিয়া ওই গ্রামের মৃত আব্দুল কাশেমের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছা থানায় কর্মরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) জি.এম ইমরান হোসেন রাজু সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সের সমন্বয়ে থানা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিলেন।
অভিযান চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, গুয়াতলী কারিগরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নান্নু মিয়া তাঁর নিজের ভোগদখলীয় আবাদি ড্রাগন ক্ষেতের ভেতর সুকৌশলে নিষিদ্ধ মাদক গাঁজার চাষ করছেন। এই সংবাদের সত্যতা যাচাই করতে রাত পৌনে ১০টার দিকে এসআই ইমরান হোসেন রাজুর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল নান্নু মিয়ার ড্রাগন বাগানে আকস্মিক হানা দেয়।
পুলিশি তল্লাশিকালে ড্রাগন বাগানের পূর্ব পার্শ্বের সারির ভেতর থেকে অত্যন্ত যত্ন সহকারে রোপণকৃত ও বেড়ে ওঠা ১টি আস্ত কাঁচা গাঁজার গাছ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীদের উপস্থিতিতে গাছটি উপড়ে ওজন করে দেখা যায়, কাঁচা গাছটির মোট ওজন ২ কেজি ৬০০ গ্রাম। অভিনব পন্থায় নিজ জমিতে এই মাদক চাষের অপরাধে বাগান মালিক মো. নান্নু মিয়াকে স্পট থেকেই গ্রেফতার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
চৌগাছা থানা পুলিশ জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের চোখ ফাঁকি দিতে ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সন্দেহ এড়াতে ড্রাগন গাছের আড়ালে এই নিষিদ্ধ গাঁজার গাছটি বড় করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় চৌগাছা থানায় একটি নিয়মিত মাদক মামলা রুজু করা হয়েছে।
আজ বুধবার আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে থানা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। মাদকের বিস্তার রোধে উপজেলার সর্বত্র এ ধরনের বিশেষ আভিযানিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ছবি সংগৃহীত।

