শেখহাটির প্রিন্স এবার স্ত্রী ও তার ২সঙ্গী ১৪৫০০পিস ইয়াবাসহ ঢাকায় গ্রেপ্তার

শেখহাটির প্রিন্স এবার স্ত্রী ও তার ২সঙ্গী ১৪৫০০পিস ইয়াবাসহ ঢাকায় গ্রেপ্তার

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

রাজধানীতে ধারাবাহিক গোয়েন্দা অভিযানে যশোরভিত্তিক একটি সংঘবদ্ধ ইয়াবা পাচারকারী চক্রের মূলহোতাসহ আরও চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গত ৬ জুলাই রাতে রাজধানীর শ্যামপুর থানার ধোলাইপাড় এলাকায় এক বিশেষ অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ১৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা, মাদক বিক্রির নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, চারটি মোবাইল ফোন এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—যশোরের শেখহাটি এলাকার বাসিন্দা ও পেশাদার মাদক কারবারি প্রিন্স মাহমুদ (৩৭), তাঁর স্ত্রী মনিরা বেগম মিষ্টি (৩০), জহিরুল হক তুহিন (৩২) ও জলি বেগম (২০)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে টেকনাফ ও ঢাকা থেকে যশোরে ইয়াবা পাচারের কথা স্বীকার করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত মনিরা বেগম মিষ্টি যশোরের ইছালী ইউনিয়নের বিতর্কিত ও তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী মইদুলের আপন বোন। সম্প্রতি মইদুলকে ২৯ বোতল ‘উইনকোরেক্স’ নামক নিষিদ্ধ মাদকসহ গ্রেপ্তার করেছিল র‍্যাব সদস্যরা। এই ভাই-বোন সিন্ডিকেট মাদক ব্যবসা করেই অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। অন্যদিকে মনিরার স্বামী প্রিন্স মাহমুদও একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি, যিনি এর আগেও যশোরে একাধিকবার বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জামিনে বের হয়ে তিনি এবার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে ঢাকায় বড় সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।

ডিএনসি সূত্র জানায়, গত ৯ জুন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিশেষ অভিযানে ১৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কথিত মাদক কারবারি মো. বাবুল হোসেন ওরফে বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ এবং ডিএনসি’র গোয়েন্দা প্রধান অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ বদরুদ্দীনের নেতৃত্বে তথ্য বিশ্লেষণ করে এই যশোরভিত্তিক চক্রটির সন্ধান মেলে।

এরই ধারাবাহিকতায় ডিএনসি’র ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম ধোলাইপাড় মোড়ে ওত পেতে থাকে। গত ৬ জুলাই রাতে সন্দেহভাজন দুটি মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তল্লাশি চালিয়ে প্রিন্স, মনিরাসহ চারজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে এই চক্রটি প্রচলিত গণপরিবহন বর্জন করে বিলাসবহুল মোটরসাইকেলের মাধ্যমে ঢাকায় ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে দ্রুত গতিতে যশোরে নিয়ে যেত। এরপর তা যশোরের বিভিন্ন খুচরা কারবারির কাছে চড়া দামে সরবরাহ করা হতো। নিজেদের মধ্যে পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে তারা এই সুসংগঠিত নেটওয়ার্কটি পরিচালনা করে আসছিল।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত চারজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় রাজধানীর শ্যামপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চক্রের পেছনে থাকা অর্থদাতা, গডফাদার ও যশোরের অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *