যেভাবে বিএনপি নেতার ঘরে গেল সরকারি বীজ !

যেভাবে বিএনপি নেতার ঘরে গেল সরকারি বীজ !

মোঃ মাসুদ রানা,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে সরকারি বরাদ্দের বিপুল পরিমাণ কৃষি উপকরণ নির্ধারিত বিতরণস্থলে না নিয়ে এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার ব্যক্তিগত শয়নকক্ষে মজুত রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ মণ্ডলের রামচন্দ্রপুর গ্রামস্থ নিজ বাড়ি থেকে গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে স্থানীয় জনতা ও দলীয় নেতাকর্মীরা সরকারি বরাদ্দের ৮ বস্তা সার ও ২২ প্যাকেট উন্নত জাতের ধানবীজ উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ওই বিএনপি নেতার বাড়ি থেকেই কৃষকদের মাঝে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মালামাল বিতরণ শুরু করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার শৈলকূপা উপজেলা পরিষদ থেকে জাহিদ হোসেন নামে এক ভ্যানচালকের মাধ্যমে ৮ বস্তা সার, ২২ প্যাকেট ধানবীজ ও কিছু গাছের চারা উত্তোলন করে কোনো প্রকার ঘোষণা ছাড়াই অত্যন্ত গোপনে ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আব্দুল্লাহ মণ্ডলের বাড়িতে এনে রাখা হয়। পরদিন মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে সরকারি কৃষি উপকরণের সত্যতা পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা কৃষি বিভাগকে অবহিত করেন।

মির্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মালিথা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত জনসমক্ষ বা সরকারি স্থান থেকে কৃষকদের মাঝে এসব উপকরণ বিতরণ করার কথা। কিন্তু ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির বাড়িতে সরকারি বরাদ্দের সার ও বীজ কীভাবে এবং কী উদ্দেশ্যে এলো, তা আমাদের জানা নেই।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, উক্ত নেতার বিরুদ্ধে এর আগেও সরকারি কম্বল ও শাড়ি বিতরণে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। একইভাবে থানা কৃষক দলের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ তুলে বলেন, আব্দুল্লাহ মণ্ডল এর আগেও সরকারি বরাদ্দের বিভিন্ন উপকরণ গোপনে বাড়িতে এনে রাখতেন এবং কিছু নামমাত্র বিতরণ করে বাকিগুলো কালোবাজারে বিক্রি করে দিতেন। এবার হাতেনাতে খবর পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে ডেকে এনে তা উদ্ধার ও বিতরণ করানো হয়েছে।

তবে সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ মণ্ডল দাবি করেন, “সোমবার উপজেলা থেকে লিটন নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে এই ৮ বস্তা সার ও ২২ প্যাকেট ধানবীজ এনে বাড়িতে রেখেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ তীব্র বৃষ্টির কারণে সেদিন কৃষকদের ডেকে তা বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।” কোনো অন্যায়ের উদ্দেশ্যে নয়, বরং সুরক্ষার জন্যই তা ঘরে রাখা হয়েছিল বলে তাঁর দাবি।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া মির্জাপুর ইউনিয়নের দায়িত্বরত ব্লক সুপারভাইজার সাকিব হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে রামচন্দ্রপুর গ্রামে আব্দুল্লাহ মণ্ডলের বাড়িতে সরকারি সার ও ধানবীজ থাকার খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাই। পরবর্তীতে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আমার নিজস্ব তত্ত্বাবধানে সরকারি তালিকা অনুযায়ী প্রকৃত কৃষকদের মাঝে সেই সার ও ধানবীজ স্বচ্ছতার সাথে বিতরণ সম্পন্ন করা হয়েছে।” এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে সরকারি বরাদ্দের সার, বীজসহ যেকোনো নাগরিক সুবিধা ব্যক্তিগত বাড়িতে না রেখে নির্ধারিত সরকারি স্থানে ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শতভাগ উপস্থিতিতে বিতরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। একই সাথে এই চুরির চেষ্টার পেছনে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম বা যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর তদন্তের দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ কৃষকেরা। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *