যশোরে দুই মাসব্যাপী ‘গ্রীন স্কুল ক্যাম্পেইন’ শুরু করলো নবচেতনা

যশোরে দুই মাসব্যাপী ‘গ্রীন স্কুল ক্যাম্পেইন’ শুরু করলো নবচেতনা

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

শুধু বইয়ের পাতায় জলবায়ু পরিবর্তনের গল্প পড়া নয়, এবার নিজের হাতে গাছ রোপণ করে পৃথিবী বাঁচানোর লড়াইয়ে নামল যশোরের শিক্ষার্থীরা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবী উপহার দিতে যশোর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বসেছিল এক অনন্য মিলনমেলা। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘নবচেতনা অ্যাকশন ফর চেঞ্জ’ (NAFC)-এর উদ্যোগে সেখানে শুরু হয়েছে দুই মাসব্যাপী ‘গ্রীন স্কুল ক্যাম্পেইন ও বনায়ন কর্মসূচি’।

বুধবার (১ জুলাই) ক্লাসরুমের চেনা গণ্ডি পেরিয়ে বাহাদুরপুর স্কুলের শিক্ষার্থীরা মেতে ওঠে পরিবেশ রক্ষার এক নতুন পাঠে। আয়োজন করা হয়েছিল জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিষয়ক এক প্রাণবন্ত আলোচনা সভা। শুধু তত্ত্বীয় কথায় সীমাবদ্ধ না থেকে, অনুষ্ঠান শেষে প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা। যেন একেকটি চারা নয়, শিক্ষার্থীদের হাতে সঁপে দেওয়া হলো এক টুকরো সবুজ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

অনুষ্ঠানে আসা অতিথিরা শিক্ষার্থীদের এই সবুজ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। পরিবেশ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আতাউর রহমান এবং যশোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন তাঁদের বক্তব্যে বলেন, “টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ সবচেয়ে জরুরি। স্কুল পর্যায় থেকে যদি এই পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলা যায়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে আমাদের প্রকৃতিতে এক ইতিবাচক বিপ্লব আনবে।”

তরুণদের এই উদ্যোগের পেছনের সারথি নবচেতনার প্রতিষ্ঠাতা তুষার চক্রবর্তী। তিনি জানান, বিশ্ব পরিবেশ দিবস (৫ জুন) থেকে শুরু হওয়া এই সবুজ অভিযান কেবল একটি স্কুলেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। পুরো জুলাই মাস জুড়ে যশোর জেলার বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে পৌঁছে যাবে এই ‘গ্রীন স্কুল ক্যাম্পেইন’।

বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম শরিফুল আনাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নবচেতনার সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান মুনির এবং প্রধান সমন্বয়কারী মিলন শেখসহ একঝাঁক সবুজপ্রেমী তরুণ স্বেচ্ছাসেবক। চারা হাতে বাড়ি ফেরার সময় শিক্ষার্থীদের হাসিমাখা মুখগুলোই বলে দিচ্ছিল— আগামীর পৃথিবীটা অন্তত এদের হাত ধরে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *