স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় একটি নির্মাণাধীন সরকারি সড়কের পিচ ঢালাই ও প্রশস্তকরণ কাজকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বাসিন্দাদের সাথে কর্মরত নির্মাণ শ্রমিকদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হামলায় প্রতিপক্ষের লাঠিসোঁটার আঘাতে ৩ জন শ্রমিক মারাত্মকভাবে আহত ও রক্তাক্ত হয়েছেন। গত ১৯ জুন শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কেশবপুর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আব্দুল হালিমের চাতাল মিলের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আব্দুল হালিমের বাড়ির সামনে থেকে পাঁজিয়ার দিকে প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কের ঢালাই কাজ চলছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঠিকাদারের অধীনে শ্রমিকরা কাজ করার সময় রাস্তার সীমানা নির্ধারণ ও প্রশস্তকরণ নিয়ে সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আব্দুল হালিম এবং স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা তীব্র আপত্তি জানান। এ নিয়ে দায়িত্বরত শ্রমিকদের সাথে তাদের প্রথমে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও গালিগালাজ শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধস্তাধস্তি ও মারামারির ঘটনা ঘটে।
হামলায় প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে মণিরামপুর উপজেলার কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা নির্মাণ শ্রমিক মতিয়ার রহমান (৪৮), একই গ্রামের সোহান (১৮) এবং তাহেরপুর গ্রামের কাজী বিল্লাল (৪৫) মারাত্মকভাবে আহত হন। অন্য সহকর্মী শ্রমিকরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে এনে ভর্তি করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের মতে, আহত ৩ শ্রমিকের শরীর ও মাথায় আঘাতের গভীর চিহ্ন থাকলেও তারা বর্তমানে সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত ও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সরকারি উন্নয়ন কাজে বাধা এবং শ্রমিকদের ওপর বর্বরোচিত এই হামলার ঘটনায় সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আব্দুল হালিম, কেশবপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান আজিজ, শিমুল হোসেন ও জাহিদ হাসানসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শুরু করেছে। সরকারি কাজে বাধা ও মারামারির সাথে জড়িত মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে কঠোর ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে বালিয়াডাঙ্গা গ্রাম এলাকায় কিছুটা থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

