বোনকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ভাইকে ছুরিকাঘাত!

বোনকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ভাইকে ছুরিকাঘাত!

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

নিজের আপন ছোট বোনকে রাস্তাঘাটে উত্যক্ত ও ইভটিজিং করার প্রতিবাদ করায় এবার নীরব হোসেন (১৮) নামের এক সাহসী ও প্রতিবাদী যুবককে প্রকাশ্য দিবালোকে ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বখাটের বিরুদ্ধে। আজ ২০ জুন ২০২৬ শনিবার বিকেল আনুমানিক ৫:০০ টার দিকে যশোর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের ঠিক পেছনে এই হামলার ঘটনাটি ঘটে। আহত নীরব হোসেন কাশিমপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত রহেলাপুর এলাকার বাসিন্দা সুলতান মাহমুদ বাচ্চুর ছেলে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রহেলাপুল এলাকার স্থানীয় বখাটে যুবক জীবন (২০) নামের এক উশৃঙ্খল ছেলে নীরব হোসেনের বোনকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে এবং বিভিন্ন সময় নানাভাবে উত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বিষয়টি পরিবারের মাঝে জানাজানি হলে আজ বিকেলে কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পেছনে এই ইভটিজিং বা উত্যক্ত করার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেন ভাই নীরব। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বখাটে জীবন ও নীরবের মধ্যে চরম বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়।

একপর্যায়ে বখাটে জীবন তাৎক্ষণিকভাবে ফোন করে তার আরও কয়েকজন উশৃঙ্খল ও চিহ্নিত সহযোগীকে দেশীয় অস্ত্রসহ ঘটনাস্থলে ডেকে আনে। তারা সবাই মিলে একা পেয়ে নীরবের ওপর অতর্কিত ও হিংস্রভাবে হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বখাটে জীবন তার কোমর থেকে একটি ধারালো সুইস গিয়ার ছুরি বের করে নীরবের বুক ও শরীর লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

নীরবের চিৎকার শুনে আশেপাশের মানুষ এগিয়ে আসলে বখাটেরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে নীরবের আপন চাচাতো ভাই স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ও হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আহত যুবকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো ও মারাত্মক অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে প্রথম দিকে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক মনে হলেও চিকিৎসা দেওয়ার পর বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত ও স্থিতিশীল রয়েছেন।

এদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে ইউনিয়ন পরিষদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয়ের পেছনে এই ছুরিকাঘাতের ঘটনায় গোটা কাশিমপুর ও রহেলাপুল এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বখাটেদের এমন দুঃসাহস ও তাণ্ডবে স্থানীয় নারী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী নীরব হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়েরের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হবে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *