স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই দেশজুড়ে এডিস মশার বংশবিস্তার বাড়ার সাথে সাথে যশোর জেলাতেও নতুন করে ডেঙ্গু রোগীর সন্ধান মিলছে। যশোর জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। স্বস্তির বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। আজ ২০ জুন ২০২৬ শনিবার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মিত ডেঙ্গু পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
যশোর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান ও তথ্য অনুযায়ী, আজ ২০ জুন পর্যন্ত যশোর জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন বা ভর্তি রয়েছেন। বর্তমানের চিকিৎসাধীন এই ৫ জন রোগীর সবাই অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। অন্যদিকে, জেলার মূল চিকিৎসা কেন্দ্র যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালসহ বাঘারপাড়া, চৌগাছা, ঝিকরগাছা, কেশবপুর, মনিরামপুর ও শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে নতুন কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি নেই।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু করে আজ ২০ জুন পর্যন্ত যশোর জেলায় সর্বমোট ১১২ জন ডেঙ্গু রোগী সরকারি ও বেসরকারিভাবে শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে উন্নত ও সঠিক চিকিৎসা সেবা পেয়ে ইতোমধ্যে ১০৭ জন রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে সুস্থ শরীরে নিজের বাড়িতে ফিরে গেছেন। স্বস্তির খবর এই যে, চলতি বছরে আক্রান্তদের মধ্যে জটিল কোনো পরিস্থিতি তৈরি না হওয়ায় এখন পর্যন্ত কাউকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার কোনো হাসপাতালে বা অন্যত্র রেফার করার প্রয়োজন পড়েনি এবং জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কোনো প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেনি।
এদিকে বর্ষার প্রাক্কালে ডেঙ্গুর প্রকোপ যাতে মহামারি আকার ধারণ করতে না পারে, সেজন্য জেলার সর্বস্তরের মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, জমে থাকা পানি নিয়মিত ফেলে দিয়ে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহারসহ ব্যক্তিগত সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই কেবল ডেঙ্গুর এই বিস্তার রোধ করা সম্ভব। জেলাজুড়ে মশক নিধনে স্থানীয় পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সচেতন মহল। ছবি সংগৃহীত।

