স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
“বিগত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে জাতীয় পার্টিকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে চিরতরে শেষ করে দেওয়ার জন্য দেশী-বিদেশী নানা কুচক্রী মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। কিন্তু জাতীয় পার্টির শিকড় এ দেশের মাটির অনেক গভীরে এবং এই দল দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে মিশে রয়েছে; তাই কোনো চক্রান্তই লাঙ্গলকে স্তব্ধ করতে পারবে না।” আজ ২০ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ শনিবার দুপুরে যশোর শহরের ঐতিহাসিক বিডি হলে যশোর জেলা জাতীয় পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল ও জনাকীর্ণ কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটির আহ্বায়ক মীর আব্দুস সবুর আসুদ এসব কথা বলেন। যশোরে দলের জেলা ও উপজেলা কমিটির শীর্ষ নেতাদের সাম্প্রতিক গণপদত্যাগের ধাক্কা সামলে খুলনা বিভাগজুড়ে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতেই মূলত এই বিশাল কর্মী সভার আয়োজন করা হয়।
কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মীর আব্দুস সবুর আসুদ জাতীয় পার্টির সোনালী অতীত ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার আমল স্মরণ করে বলেন, “পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলেন, তখন দেশে রেকর্ড পরিমাণ দৃশ্যমান ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছিল। সে সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ও ক্রয়ক্ষমতা অনেক ভালো ছিল এবং দেশের মানুষ চরম শান্তিতে বসবাস করতো।”
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তীব্র ক্ষোভ ও অভিযোগের সুরে জাপা’র এই শীর্ষ নেতা বলেন, “অধ্যাপক ইউনুস সরকার দেশের সাধারণ মানুষের সাথে একটি প্রহসনের নির্বাচন দিয়ে পর্দার আড়াল থেকে বিএনপিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসিয়েছে। এই সরকার এবং বর্তমান শাসকদল সম্মিলিতভাবে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি জাতীয় পার্টিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।” তিনি আগামী দিনে জাতীয় পার্টিকে পুনরায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনতে এবং পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের হাতকে আরও শক্তিশালী করতে দল ও তার সকল অঙ্গসংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের যাবতীয় বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে রাজপথ কাঁপানো আন্দোলনের জোর আহ্বান জানান।
যশোর জেলা জাতীয় পার্টির প্রভাবশালী নেতা খবির গাজীর পরিচালনায় কর্মী সভায় কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় ও অঙ্গসংগঠনের একঝাঁক শীর্ষনেতা বক্তব্য রাখেন।
কর্মী সভায় কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডের পক্ষ থেকে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফুজ্জামান আশু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম বাচ্চু, পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মধু, ভাইস চেয়ারম্যান আহাদ ইউ চৌধুরী শাহীন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব দ্বীন ইসলাম শেখ, যুগ্ম মহাসচিব হেলাল উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নির্মল চন্দ্র দাস।
খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করে সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ জেলা জাপা’র সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল ইসলাম বাচ্চু, মাগুরা জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি সিরাজুল সালেক শাহীন, মেহেরপুর জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি কেতাব আলী, খুলনা মহানগর শাখার যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাগেরহাট জেলার কেন্দ্রীয় সদস্য শাহ আলম খান, কুষ্টিয়া জেলার যুগ্ম সম্পাদক আইনুদ্দিন মাস্টার, চুয়াডাঙ্গা জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন এবং নড়াইল জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান ফিরোজ।
কেন্দ্রীয় অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে সভায় মাঠপর্যায়ের আন্দোলনের রূপরেখা তুলে ধরেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় মোটর শ্রমিক পার্টির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শিপন এবং জাতীয় শ্রমিক পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতি মেফতা উদ্দিন জসিম প্রমুখ।
জাতীয় পার্টির নেতা মকবুল হোসেনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই কর্মী সভায় যশোর জেলাসহ খুলনা বিভাগের আওতাধীন ১০টি জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভা থেকে আগত বিপুল সংখ্যক তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা ফেস্টুন ও লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে উপস্থিত হয়ে বিডি হল প্রাঙ্গণে এক উৎসবমুখর রাজনৈতিক আবহ তৈরি করেন। ছবি সংগৃহীত।

