মাগুরা প্রতিনিধি :
মাগুরা জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় ও নিখুঁত রাখা এবং জেলাজুড়ে সংঘটিত বিভিন্ন চুরির ঘটনার চোরাই মালামাল কেনাবেচা সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে মাগুরা জেলার শালিখা থানাধীন এলাকায় স্থানীয় ভাংড়ি (ভাগারি বা স্ক্র্যাপ) ব্যবসায়ীদের সাথে জেলা পুলিশের এই বিশেষ উদ্বুদ্ধকরণ ও হুঁশিয়ারি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শালিখায় আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ ও দিকনির্দেশনামূলক সভায় সভাপতিত্ব করেন মাগুরা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার (এসপি) জনাব মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম-সেবা। তিনি তাঁর বিশেষ বক্তব্যে জেলায় চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধে স্থানীয় ভাংড়ি ব্যবসায়ীদের অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও সতর্ক ভূমিকা পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং বেশ কিছু কড়া নির্দেশনা প্রদান করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ও মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার মহোদয় সাম্প্রতিক সময়ের কিছু অপরাধের চিত্র তুলে ধরে উল্লেখ করেন যে, ইদানীং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ দফতর, রাস্তাঘাট এবং সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি থেকে বৈদ্যুতিক তার, সরকারি টেলিফোনের মূল্যবান তার, এসির দামি তার, টিউবওয়েলের মাথা, পানির পাম্প বা মোটর, রড ও লোহার আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব চোরাইকৃত রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত মালামাল অনেক ক্ষেত্রে একশ্রেণীর অসাধু ভাংড়ির দোকানের (ভাগারি) মাধ্যমে খুব কম দামে গোপনে ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে। এই সহজ কেনাবেচার সুযোগ পাওয়ায় চোর চক্র ও মাদকাসক্ত যুবকেরা অপরাধ প্রবণতা বাড়াতে আরও বেশি উৎসাহিত হচ্ছে, যা পরোক্ষভাবে অপরাধ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
এ প্রেক্ষিতে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে পুলিশ সুপার দৃঢ়ভাবে নির্দেশনা প্রদান করেন যে, “কোনো ভাংড়ি ব্যবসায়ী বা দোকান মালিক যদি জেনেশুনে কিংবা অসাবধানতাবশত কোনো প্রকার চোরাইকৃত মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে সামান্যতম জড়িত থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত কঠোর ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং তার দোকান সিলগালাসহ তাকে চুরির সহযোগী হিসেবে গ্রেফতার করা হবে।”
মাননীয় পুলিশ সুপারের এই কঠোর ও যৌক্তিক দিকনির্দেশনা সভায় উপস্থিত শালিখা উপজেলার ভাংড়ি ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করেন। ব্যবসায়ীরা জেলা পুলিশের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রয় থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ বিরত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি, ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ এই প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন যে, সন্দেহভাজন কেউ যদি কোনো প্রকার সরকারি বা ব্যক্তিগত চোরাইকৃত মালামাল বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে তাঁদের কোনো দোকানে নিয়ে আসে, তবে লোভ না করে তাৎক্ষণিকভাবে শালিখা থানা পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট পুলিশ ক্যাম্পকে অবহিত করে সেই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মালামালসহ আইনের আওতায় সোপর্দ করতে সরাসরি সহায়তা করবেন।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জনাব নিশাত আল নাহিয়ান, সহকারী পুলিশ সুপার (শালিখা সার্কেল); শালিখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি); জেলা ও ডিবি পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ; আঞ্চলিক ভাংড়ি ব্যবসায়ী সমিতির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং শালিখা এলাকার সর্বস্তরের ভাংড়ি ব্যবসায়ী, দোকান মালিক ও সাধারণ শ্রমিকবৃন্দ। ছবি সংগৃহীত।


