১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে রিকশাচালক ফারুককে গণপিটুনি

১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে রিকশাচালক ফারুককে গণপিটুনি

মাসুদ রানা কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:

প্রতিবেশী ১২ বছর বয়সী  শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে কালীগঞ্জে এক রিকশা চালককে গণপিটুনি দিয়েছে জনগন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার রাতে লম্পট মীর ফারুক সুযোগ বুঝে প্রতিবেশীর ১২ বছর বয়সী এক অবুঝ কন্যা শিশুকে ঘরে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। লোকলজ্জা ও ভয়ে শিশুটি রাতে চুপ থাকলেও আজ শনিবার সকালে কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো ঘটনাটি তার মায়ের কাছে খুলে বলে। পরবর্তীতে এই নির্মম নির্যাতনের বিষয়টি প্রতিবেশীদের মাঝে জানাজানি হলে স্থানীয় নারী-পুরুষসহ শত শত বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে ফারুকের বাসা ঘেরাও করে। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাকে হাতেনাতে ধরে গণধোলাই দেওয়া শুরু করে। ঘটনার খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উন্মত্ত জনতার হাত থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় মীর ফারুককে উদ্ধার করে এবং চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।

এদিকে ঘটনাটি এখানেই শেষ হয়নি; গণপিটুনির শিকার মীর ফারুকের বিরুদ্ধে তার নিজের আপন ছোট কন্যাসন্তানকে দীর্ঘদিন ধরে শ্লীলতাহানি ও যৌন নিপীড়ন করার এক হাড়হিম করা বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন স্বয়ং তার স্ত্রী ও ভুক্তভোগী কন্যা। ফারুকের স্ত্রী নিজের কন্যাসন্তানের ওপর হওয়া পৈশাচিক নির্যাতনের বিষয়টি কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্বীকার করে গণমাধ্যমকে জানান, গতকাল শুক্রবার বিকেলেই মীর ফারুক তার ছোট মেয়েকে জোরপূর্বক বাড়ির পাশের নদীর ধারে নির্জন এলাকায় নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে পৈশাচিক কায়দায় শ্লীলতাহানি করে। শুধু তাই নয়, এই কুকর্মের পর মেয়েকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলার সরাসরি হুমকি দিয়ে ফারুক বলে, শ্লীলতাহানির এই বিষয়টি যদি বাড়ির বা বাইরের কাউকে বলা হয়, তবে তাকে কেটে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে জীবন বাঁচানোর স্বার্থে শিশুটি এই পাশবিকতার কথা কাউকে না বলার প্রতিজ্ঞা করলে পাষণ্ড পিতা তাকে পুনরায় বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। নিজের বাবার এমন চরম বিকৃত ও ভয়ংকর আচরণের কথা প্রকাশ পাওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এই জঘন্য ও স্পর্শকাতর অপরাধের বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি, তদন্ত) মনিরুজ্জামান সংবাদ মাধ্যমকে সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করে জানান, এলাকাবাসী কর্তৃক এক রিকশাচালককে আটকে রেখে মারধর করার খবর পাওয়া মাত্রই আমরা সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। জনরোষ থেকে মীর ফারুককে অক্ষত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে কড়া পুলিশি পাহারায় তার চিকিৎসা চলছে। তিনি আরও যোগ করেন, প্রতিবেশীর শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা এবং নিজের আপন কন্যাকে শ্লীলতাহানির এই দুটি গুরুতর ও জঘন্যতম অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যেই মাঠে নেমে নিবিড় ও ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে এই বিকৃত অপরাধীর বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে কঠোরতম দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *