এসআই বেলায়েত ও রাজুর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

এসআই বেলায়েত ও রাজুর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরের ঝিকরগাছা থানার সাবেক দুই উপ-পরিদর্শক (এসআই) এর বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলার তদন্তে নজিরবিহীন অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পক্ষপাতমূলক আচরণের মাধ্যমে মূল আসামিদের বাদ দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী মুর্শিদা আক্তার রেনুকা প্রতিকার চেয়ে যশোরের পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন— ঝিকরগাছা থানার শিওরদাহ ক্যাম্পের তৎকালীন ইনচার্জ এসআই বেলাল হোসেন (বর্তমানে একই ক্যাম্পে কর্মরত) এবং এসআই জি এম ইমরান হোসেন রাজু (বর্তমানে চৌগাছা থানায় কর্মরত)।

পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, ঝিকরগাছা উপজেলার শিওরদাহ গ্রামের বাসিন্দা মুর্শিদা আক্তার রেনুকা ও তার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে শরিকদের বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ প্রতিপক্ষের লোকজন রেনুকার পরিবারের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলকারীরা তাদের নির্মাণাধীন রান্নাঘর ভাঙচুর করে এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মুর্শিদা আক্তার রেনুকাকে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ভুক্তভোগী রেনুকা অভিযোগে উল্লেখ করেন, হামলার ঘটনার সময় শিওরদাহ ক্যাম্পের তৎকালীন ইনচার্জ এসআই বেলাল হোসেন সশরীরে উপস্থিত থাকলেও তিনি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেননি। পরবর্তীতে রেনুকা আদালতের দ্বারস্থ হলে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে ঝিকরগাছা থানায় মামলাটি এজাহারভুক্ত হয় এবং এসআই বেলাল হোসেনকেই এর তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

রেনুকার দাবি, তদন্তভার পাওয়ার পর থেকেই এসআই বেলাল হোসেন মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য তাদের ওপর নানাভাবে মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন। শুধু তাই নয়, আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর চার্জশিট দেওয়ার নাম করে তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ (ঘুষ) গ্রহণ করেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে কোনো এক কারণে মামলাটির তদন্তভার পান ঝিকরগাছা থানার তৎকালীন আরেক এসআই জি এম ইমরান হোসেন রাজু। অভিযোগে বলা হয়, তিনি পূর্ববর্তী তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বেলালের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ব্যাহত করেন। ইমরান হোসেন রাজু মামলার এজাহারনামীয় ৮ জন আসামির মধ্যে মূল ৫ জন প্রভাবশালী আসামিকে সুকৌশলে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে মাত্র ৩ জনের বিরুদ্ধে নামকাওয়াস্তে একটি ত্রুটিপূর্ণ চার্জশিট দাখিল করেন।

অভিযোগে আরও একটি গুরুতর জালিয়াতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, মুর্শিদা আক্তার রেনুকা যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা সত্ত্বেও, আসামিদের সুবিধা পাইয়ে দিতে তদন্ত প্রতিবেদনে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি হাসপাতালের চিকিৎসা সনদ (মেডিকেল সার্টিফিকেট) ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ সাক্ষীদের বক্তব্য যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করে, অভিযুক্তদের ঘনিষ্ঠ ও অনুগত ব্যক্তিদের সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই বেলাল হোসেন ঘুষ ও অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেন, “আমি পূর্বে প্রতিপক্ষের দায়ের করা একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলাম। পরে এক মাস পর আমাকে এই মামলার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আর ঘটনার সময় আমি শিওরদাহ ক্যাম্পে ছিলাম না, আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়েছিলাম।”

অন্যদিকে এসআই জি এম ইমরান হোসেন রাজু তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, “মামলাটি ইতোমধ্যে জেলা পুলিশ ও পিবিআই (PBI) তদন্ত করে একই ধরনের প্রতিবেদন দিয়েছে। বর্তমানে মামলাটির পুনর্তদন্ত সিআইডি (CID) করছে। তাই তদন্তে কোনো অনিয়ম হয়নি।”

তবে ভুক্তভোগী মুর্শিদা আক্তার রেনুকার দাবি, পুলিশের অভ্যন্তরীণ যোগসাজশের কারণে তারা শুরু থেকেই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জেলা পুলিশের সর্বোচ্চ অভিভাবক পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই জালিয়াতির সুষ্ঠু তদন্ত ও দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন তিনি। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *