স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের অভয়নগর উপজেলায় চাঁদা না দেওয়ায় এক অবিনব ও ভীতিকর কায়দায় জামির হোসেন (৫৫) নামে এক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি ৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। গতকাল বুধবার (১০ জুন ২০২৬) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামে এই রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জামির হোসেন চন্দ্রপুর গ্রামের মৃত কুটি মিয়ার ছেলে। এই ঘটনার পর থেকে পুরো গ্রাম জুড়ে তীব্র নিরাপত্তা হীনতা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন সন্ত্রাসী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ব্যবসায়ী জামির হোসেনের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে তাকে ও তার পরিবারকে বড় ধরনের মাশুল দিতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। কিন্তু জামির হোসেন সন্ত্রাসীদের এই অন্যায় আবদার ও চাঁদা দিতে স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানান।
এরই জের ধরে গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মটরসাইকেল যোগে কয়েকজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত আকস্মিক চন্দ্রপুর গ্রামে জামির হোসেনের বসতবাড়ির সামনে এসে অবস্থান নেয়। তারা প্রথমে বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতেই ক্ষান্ত না হয়ে দুর্বৃত্তরা জোরপূর্বক বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে এবং উঠানে দাঁড়িয়ে আরও দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুলির বিকট শব্দে পুরো এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে অভয়নগর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল রাতেই দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। পুলিশ সদস্যরা তল্লাশি চালিয়ে ব্যবসায়ী জামির হোসেনের বাড়ির আঙিনা ও আশপাশ থেকে অপরাধীদের ব্যবহৃত অস্ত্রের দুটি তাজা গুলির খোসা আলামত হিসেবে উদ্ধার করেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, চাঁদার টাকা আদায় করার জন্য ব্যবসায়ীকে চরমভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জিম্মি করার উদ্দেশ্যেই এই সুপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে।
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিং করাসহ এই চক্রের সাথে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”ছবি সংগৃহীত।

