মোঃ মাসুদ রানা,কালীগঞ্জ ঝিনাইদহ :
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের বৃদ্ধ শামসুল ইসলামের জীবনের গল্পটা ছিল কেবলই সংগ্রাম আর বঞ্চনার। চার সন্তানের মধ্যে তিনজনই জন্মগতভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, আর সড়ক দুর্ঘটনায় এক পা হারিয়ে চলতশক্তিহীন স্ত্রী। দীর্ঘদিনের এই অমানবিক দুঃখগাথায় অবশেষে স্বস্তির পরশ বুলিয়ে দিল উপজেলা প্রশাসন।
সহায়-সম্বলহীন শামসুলের মেঝো মেয়ে রুবিনা, ছেলে সেলিম ও ছোট মেয়ে রাশিদা—তিনজনই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। অভাবের তাড়নায় রোকেয়াকে বিয়ে দিলেও দৃষ্টিশক্তির অভাবে স্বামীর সংসার ছেড়ে বাবার বাড়িতেই ফিরে আসতে হয়েছে রুবিনাকে। অন্যের সাহায্য আর অনুমানের ওপর নির্ভর করে চলাফেরা করা এই তিন ভাই-বোনের মানবেতর জীবন নিয়ে গত ৪ জুন একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সংবাদ প্রচারিত হয়।
সংবাদটি নজরে আসার পরপরই মানবিক সাড়া দেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ। তিনি দ্রুত পরিবারটির খোঁজখবর নেন এবং ব্যক্তিগতভাবে শামসুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন।
শুধু সাময়িক সহায়তাই নয়, ইউএনও’র উদ্যোগে তিন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ভাই-বোনের স্থায়ী চিকিৎসার পথও সুগম হয়েছে। একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে তাঁদের চোখের প্রাথমিক পরীক্ষা করানো হয়েছে। এছাড়া শামসুলের পঙ্গু স্ত্রী সালেহা বেগমের চলাচলের জন্য একটি হুইলচেয়ার প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
উপজেলা প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শামসুল ইসলাম। তিনি চোখের পানি মুছে বলেন, “এতদিন কেউ আমাদের খবর নিতে আসেনি। এই প্রথম কেউ আমাদের দরজায় এসে হাত বাড়িয়ে দিল। আজ আমি ও আমার পরিবারের সবাই খুব খুশি।”
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. নাঈম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাঁরা ‘রাতকানা’ রোগের কোনো জটিল স্তরে আক্রান্ত। বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যাবে তাঁদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব কি না।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “পরিবারটির জীবনযুদ্ধের কথা শুনে আমি স্তম্ভিত হয়েছি। সরকারি বিধি অনুযায়ী তাঁদের জন্য ঘর নির্মাণ বা প্রতিবন্ধী ভাতার মতো দীর্ঘমেয়াদী সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। আমরা তাঁদের পাশে আছি।” ছবি সংগৃহীত।

