স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের কৃষ্ণবাটি গ্রামে দীর্ঘদিনের পূর্ব শত্রুতা ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বাবু সরকার (৩৫) নামে এক নিরীহ কৃষককে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে অত্যন্ত গুরুতর ও আশঙ্কাজনকভাবে জখম করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (৫ জুন, ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কৃষ্ণবাটি গ্রামের একটি স্থানীয় মন্দিরের সামনে এই নৃশংস ও বর্বরোচিত হামলার ঘটনাটি ঘটে। রক্তাক্ত জখম হওয়া বাবু সরকার ওই গ্রামেরই বাসিন্দা মৃত অতুল সরকারের ছেলে এবং তিনি পেশায় একজন সাধারণ কৃষক। প্রকাশ্য দিবালোকে মন্দিরের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে এই রক্তাক্ত হামলার ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে পুরো মণিরামপুর উপজেলা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা গেছে, কৃষ্ণবাটি গ্রামের আহত কৃষক বাবু সরকারের সঙ্গে একই গ্রামের বাসিন্দা অশোক মল্লিক, কনক মল্লিক ও কল্যাণ মল্লিকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পারিবারিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে তীব্র বিরোধ ও চরম শত্রুতা চলে আসছিল। আজ শুক্রবার বিকেলে বাবু সরকারের বাড়ির ঠিক সামনে অবস্থিত একটি মন্দিরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বার্ষিক নামযজ্ঞ অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় উৎসব চলছিল। উৎসব চলাকালে হঠাৎ করেই পূর্ব বিরোধের জের ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি, তর্কাতর্কি ও বাগ-বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সেই উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে একটি বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অভিযোগ উঠেছে, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ অশোক মল্লিক, কনক মল্লিক ও কল্যাণ মল্লিকসহ তাদের সাথে থাকা ৪ থেকে ৫ জন উগ্র যুবক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাবু সরকারের ওপর অতর্কিত ও এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। তারা বাবু সরকারকে লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার পাশাপাশি সম্পূর্ণ হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো দা দিয়ে তাঁর মাথায় প্রচণ্ড জোরে আঘাত করে, যার ফলে তাঁর মাথার খুলি ফেটে অত্যন্ত গুরুতর ও গভীর রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় বাবু সরকারের জীবন বাঁচানোর আকুল আর্তচিৎকার ও শোরগোল শুনে তাঁর স্বজন এবং স্থানীয় প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
মণিরামপুর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আহত কৃষককে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন এবং মাথায় গভীর ক্ষত হওয়ায় তাঁর ক্ষতস্থানে অসংখ্য সেলাই দেওয়া হয়। তবে মাথার ভেতরে গুরুতর অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হতে থাকায় এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায়, কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত ও জরুরি অস্ত্রোপচারের চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার বা স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।
এই বর্বরোচিত হামলার বিষয়ে মণিরামপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদ মাধ্যমকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, মন্দিরের সামনে সংঘর্ষ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার বিষয়টি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং এই ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া জোরদারভাবে চলমান রয়েছে। তবে এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত ঘটনার সাথে জড়িত প্রধান অভিযুক্ত অশোক, কনক বা কল্যাণ মল্লিকের কাউকেই পুলিশ এখনো আটক বা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি; অপরাধীদের হাতেনাতে ধরতে পুলিশের একটি বিশেষ টিম কৃষ্ণবাটি গ্রামসহ আশেপাশের এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে বলে থানা সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ছবি সংগৃহীত।

