যশোরে একদিনে ঝরলো তিন তাজা প্রাণ

যশোরে একদিনে ঝরলো তিন তাজা প্রাণ

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরের বাঘারপাড়া ও সদর উপজেলায় পৃথক তিনটি অত্যন্ত বেদনাবিধুর ও শোচনীয় ঘটনায় এক নিষ্পাপ শিশু, এক পেশাদার রড মিস্ত্রি এবং এক কিশোরীর অকাল মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন, ২০২৬) সকাল ও দুপুরের দিকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনাগুলো ঘটে। নিহতরা হচ্ছে-নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার বাবরা গ্রামের ইমরান শেখের ৩ বছর বয়সী শিশু পুত্র লাবিব, বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর গ্রামের মৃত সাত্তার মোল্যার ছেলে ও পেশায় রড মিস্ত্রি আলমগীর (৪৮) এবং যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের মোবারককাঠি গ্রামের আয়ুব আলীর ১৪ বছর বয়সী কন্যা রাবেয়া খাতুন। একদিনের ব্যবধানে তিনটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার ঘটনায় নিহতের পরিবার পরিজনদের মাঝে শোকের মাতম চলছে এবং পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নড়াইলের শিশু লাবিব বাঘারপাড়া উপজেলার ঘোপ ছাতিয়ানতলা গ্রামে তার নানাবাড়িতে মায়ের সাথে বেড়াতে এসেছিল। আজ বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে নানাবাড়ির বারান্দায় আপনমনে খেলাধুলার করার সময় বারান্দায় থাকা একটি সচল টেবিল ফ্যানের সংযোগকারী বৈদ্যুতিক মাল্টিপ্লাগের ছিদ্রে অবুঝ শিশুটি নিজের আঙুল প্রবেশ করিয়ে দেয়। সাথে সাথে সে তীব্রভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অবশ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন তাকে আশঙ্কাজনক ও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে, একই দিন সকাল পৌনে ১০টার দিকে বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা ও রড মিস্ত্রি আলমগীর তাঁর নিজের বাড়ির পাশে অবস্থিত প্রতিবেশী ইব্রাহিম হোসেনের বাড়িতে একটি নির্মাণাধীন ভবনে রড কাটার কাজ করছিলেন। কাজ করার একপর্যায়ে হঠাৎ করে সচল ইলেকট্রিক গ্রেন্ডার মেশিনের একটি নাট আলগা হয়ে খুলে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো মেশিনটি বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে। এতে আলমগীর মেশিনের সাথে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই ছিটকে পড়েন। পরে চারপাশের প্রতিবেশীরা তীব্র শব্দ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

এদিকে, যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের মোবারককাঠি গ্রামে তুচ্ছ পারিবারিক কলহের জেরে রাবেয়া খাতুন নামে এক কিশোরী ঘরের ভেতরে গলায় ফাঁস দিয়ে নির্মমভাবে আত্মহত্যা করেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে পরিবারের সদস্যদের সাথে অভিমান করে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষের কাঠের আড়ার সঙ্গে নিজের পরনের ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয় সে। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘরের দরজা ভেঙে তাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য অতি দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন। যশোর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই তিনটি ভিন্ন ও হৃদয়বিদারক ঘটনার প্রেক্ষিতেই বাঘারপাড়া ও কোতোয়ালি মডেল থানায় আলাদা আলাদা তিনটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *