মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ :
একই পরীক্ষা, একই প্রশ্নপত্র, তবুও ফলাফলে ভিন্ন মূল্যায়ন পদ্ধতি। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এ কোটা নির্ধারণকে ঘিরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন ও একাডেমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র ২০ শতাংশ বৃত্তি নির্ধারণকে বৈষম্যমূলক বলে অভিযোগ করছেন তারা।
শনিবার সকালে কালীগঞ্জের নলডাঙ্গা ভূষণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একাধিক অভিভাবক এই কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তা বাতিলের দাবি জানান।
শারমিন তানিয়া নামে এক অভিভাবক বলেন, একই পরীক্ষা ও প্রশ্নপত্র হওয়া সত্ত্বেও বৃত্তি প্রদানে ভিন্ন কোটা নির্ধারণ অন্যায্য। এতে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী বঞ্চিত হবে, আবার কম নম্বর পেয়েও কেউ বৃত্তি পেয়ে যেতে পারে। এটি মেধার সঠিক মূল্যায়ন নয়।
আরেক অভিভাবক রাজিয়া সুলতানা বলেন, সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষার্থীদের আলাদা করে দেখা হলে শিশুদের মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট হতে পারে।
পরীক্ষার্থী সৃজন ঘোষের বাবা সাধন কুমার ঘোষ বলেন, আমার সন্তান একই বই পড়ে, একই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠান ভিন্ন হওয়ার কারণে তার সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে কেন? এটি সমান অধিকারের পরিপন্থী। একই সুরে সঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, রাষ্ট্র যখন সমান শিক্ষার কথা বলে, তখন বৃত্তির মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এমন বিভাজন অযৌক্তিক।
পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীও জানায়, তারা ভালো পরীক্ষা দিয়েছে এবং মেধার ভিত্তিতে বৃত্তি পাওয়ার প্রত্যাশা করে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হামিদুর রহমান বলেন, সরকারি নীতিমালার কারণে অভিভাবকদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। কিন্ডারগার্টেনের জন্য ২০ শতাংশ কোটা নির্ধারণ অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না।
বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এন্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল ফাউন্ডেশনের কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, বৃত্তি মেধার স্বীকৃতি, কোনো প্রতিষ্ঠানের নয়। একই মানদণ্ডে পরীক্ষা হলে ফলাফলও এক হওয়া উচিত। কোটা নয়, উন্মুক্ত মেধা তালিকার ভিত্তিতে বৃত্তি দেওয়া প্রয়োজন। তিনি জানান, এ বছর উপজেলায় ১ হাজার ৪৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯টি কিন্ডারগার্টেনের ১৫৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, সরকারিভাবে এবারের বৃত্তি মূল্যায়নে ৮০-২০ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও এখন তা পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
অভিভাবকদের দাবি, বৈষম্যমূলক এই কোটা পদ্ধতি বাতিল করে মেধার ভিত্তিতে বৃত্তি প্রদান নিশ্চিত করা হোক।
ছবি প্রতিবেদক।


