স্কুলছাত্রী বৈশাখীকে উদ্ধারের দাবিতে উত্তাল যশোর-নড়াইল সড়ক

স্কুলছাত্রী বৈশাখীকে উদ্ধারের দাবিতে উত্তাল যশোর-নড়াইল সড়ক

শহিদ জয় :
অপহৃত স্কুলছাত্রী বৈশাখী রানীকে দ্রুত উদ্ধারের দাবিতে যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের দাসপাড়া এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৪ মে ২০২৬) বিকেলে যশোর-নড়াইল সড়কে এ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
জানা যায়, যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের দাসপাড়ার বাসিন্দা দেবদাস বিশ্বাসের নবম শ্রেণির পড়ুয়া মেয়ে বৈশাখী রানী গত ৮ এপ্রিল ২০২৬ সকালে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। ওইদিন তার স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থাকায় সে সাধারণ পোশাকে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বের হয়েছিল। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরে ১১ এপ্রিল যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৯০৮) করেন তার বাবা। জিডিতে কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের বাসিন্দা কনক কুমার দাসকে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করলেও প্রাথমিকভাবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,কেশবপুরে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বৈশাখীর সঙ্গে কনক কুমার দাসের পরিচয় হয়। অভিযোগ রয়েছে, এরপর থেকে সে বৈশাখীকে বিভিন্ন সময় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আসছিল।
পরিবারের দাবি, নিখোঁজের ৭-৮ দিন পর বৈশাখী দাসপাড়ার আশীষ নামের এক যুবককে ফোন করে জানায়, সে ভালো নেই এবং তাকে উদ্ধার করার জন্য অনুরোধ করে। এরপরও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তাকে উদ্ধারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় পরিবার যশোর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা (নং-৭৮) দায়ের করে।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পিবিআই গত ৩০ এপ্রিল থেকে তদন্ত শুরু করে। তবে এখন পর্যন্ত অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ স্বজনদের।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা বিডিইআরএম-এর সভাপতি সূর্য বিশ্বাস। এসময় বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা নাগরিক উদ্যোগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর নাসির উদ্দিনসহ আরো অনেকে।
বক্তারা দ্রুত বৈশাখী রানীকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানান। এদিকে মেয়েকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন বৈশাখীর বাবা-মা; সন্তানকে হারিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *