মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি :
যে ওষুধ বেঁচে থাকার আশা যোগায়, সেই ওষুধ রোগীর ঘরে না গিয়ে চলে যাচ্ছে ময়লার ডাস্টবিনে বা পরিত্যক্ত ভাগাড়ে। ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। গরিব, অসহায়, দুস্ত রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিবছর কোটি টাকা মূল্যের এই সকল ঔষধ সরবরাহ করে থাকে। সেই ঔষধ হাসপাতালের পেছনের জঙ্গলে লাখ লাখ টাকা মূল্যের দামী অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন জীবনরক্ষাকারী ওষুধ পুড়িয়ে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের পেছনের একটি নির্জন অংশে জঙ্গলের ভেতর বিপুল পরিমাণ সরকারি ঔষধ এর অবশিষ্টাংশ পড়ে আছে। যার মধ্যে বেশিরভাগই দামী অ্যান্টিবায়োটিক ও জরুরি ওষুধ। অভিযোগ রয়েছে, ওষুধগুলোর মেয়াদের তারিখ (Exp. Date) পার হয়ে যাওয়ায় সাধারণ রোগীদের না দিয়ে এভাবে গোপনে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। পুড়তে থাকা ওষুধের পাতা ও বোতলের অবশিষ্টাংশ থেকে নির্গত ধোঁয়ায় হাসপাতালের পরিবেশ ও সংলগ্ন এলাকার জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, কাঁচের বোতলে থাকা তরল ওষুধ পোড়ানোর সময় বিকট শব্দে তা ফাটতে শুরু করলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বৃদ্ধা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা হাসপাতালে আসলে ঠিকমতো ওষুধ পাই না। ডাক্তাররা চিরকুটে লিখে বাইরে থেকে ওষুধ কিনে নিতে বলেন। অথচ এখানে দামী দামী ওষুধগুলো মানুষকে না দিয়ে জমিয়ে রেখে নষ্ট করা হচ্ছে।”
স্থানীয় যুবকদের অভিযোগ, হাসপাতালের একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চিকিৎসক ওষুধ কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে নিয়মিত ‘মাসোয়ারা’ গ্রহণ করেন। ফলে সরকারি ফ্রি ওষুধ রোগীদের না দিয়ে সুকৌশলে বাইরের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই যোগসাজশের কারণেই সরকারি ওষুধের মজুদ পড়ে থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ হচ্ছে এবং প্রমাণ নষ্ট করতে তা পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে প্রেসক্লাব সভাপতি মো. আজিজুর রহমান টুটুল বলেন, “সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ এভাবে রাতের অন্ধকারে পুড়িয়ে ফেলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যদি ওষুধের মেয়াদ শেষ হওয়ার উপক্রম হতো, তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে অন্য কোনো হাসপাতালে তা স্থানান্তর করা যেত। কিন্তু তা না করে ওষুধগুলো স্টক করে রেখে সাধারণ রোগীদের বঞ্চিত করা হয়েছে এবং এখন প্রমাণ লোপাটের অপচেষ্টা চলছে।”
যোগাযোগ করা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ওষুধ পুড়িয়ে ফেলার প্রক্রিয়াটিকে ‘অন্যায়’ বলে স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, রোগীদের নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ করা হয়।
অন্যদিকে, মাগুরার সিভিল সার্জন জানান, মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ পোড়ানোর বিষয়ে তাকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি সম্পদ নষ্ট এবং রোগীদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করার পেছনে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মহম্মদপুরের সচেতন নাগরিক সমাজ। ছবি প্রতিবেদক।


