স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
অন্যের হয়ে ‘প্রক্সি’ পরীক্ষা দেওয়া এবং জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক বিসিএস কর্মকর্তাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত জুলফিকার আলী ওরফে রায়হান ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত। তিনি বর্তমানে কক্সবাজারের মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক পদে কর্মরত। গ্রেফতার হওয়া অন্য দুজন হলেন চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ কর অঞ্চল-২-এর অফিস সহকারী মো. নুরন্নবী ও মো. সোহেল। বৃহস্পতিবার নোয়াখালী সিআইডির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করে।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী কর অঞ্চলে বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য আয়োজিত পরীক্ষায় লিখিত, ব্যবহারিক ও ভাইভা শেষে চূড়ান্তভাবে মনোনীত প্রার্থীদের গত ২১ জুন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যোগ দিতে বলা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের সময় কামাল উদ্দিন ও মো. নাসফুরুল্লাহ নামের দুই প্রার্থীর আবেদনের হাতের লেখার সঙ্গে ভাইভার চেকলিস্টের লেখার স্পষ্ট অমিল ধরা পড়ে। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের জেরার মুখে তাঁরা স্বীকার করেন যে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রক্সি পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে তাঁরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।
একই প্রক্রিয়ায় মো. সুজন নামের আরেক প্রার্থীর জালিয়াতি ধরা পড়লে তাদেরকে সুধারাম থানায় সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে নোয়াখালী সিআইডি ঘটনাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং মামলাটির মূল তদন্তভার গ্রহণ করে।
সিআইডির তদন্তে বেরিয়ে আসে, একটি সুসংগঠিত চক্র দীর্ঘদিন ধরে টাকার বিনিময়ে প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ করে সরকারি চাকরিতে ভুয়া নিয়োগের সুযোগ তৈরি করে আসছিল। গ্রেফতারকৃত ৩ জনই এই জালিয়াতি সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য।
জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ কর কার্যালয় থেকে নুরন্নবী ও সোহেলকে এবং মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে বিসিএস কর্মকর্তা জুলফিকার আলীকে গ্রেফতার করা হয়। সিআইডি জানিয়েছে, প্রতারক চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতীকী-ছবি সংগৃহীত।


