স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার কোতোয়ালি মডেল থানাধীন বড় ভেকুটিয়া এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির দুটি জীবন্ত তক্ষকসহ এক বন্যপ্রাণী পাচারকারীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) গভীর রাতে (রাত্রি ১২টা ২৫ মিনিটে) বড় ভেকুটিয়া গ্রামের নিজ বসতবাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। অভিযানটি পরিচালনা করে র্যাব-৬, সিপিসি-৩, যশোর ক্যাম্পের স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি বাসুদেব সাহার নেতৃত্বে একটি চৌকস দল।
র্যাবের অভিযানে গ্রেফতার হওয়া বন্যপ্রাণী পাচারকারীর নাম মোঃ সোহেল পারভেজ (৩৬)। তিনি যশোর জেলার কোতোয়ালি মডেল থানার বড় ভেকুটিয়া গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে। তাঁর মাতার নাম সেফালী বেগম।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৬ (যশোর ক্যাম্প) জানতে পারে যে, কোতোয়ালি থানার বড় ভেকুটিয়া গ্রামে এক ব্যক্তি তাঁর নিজ বসতবাড়িতে বন্যপ্রাণী আইন লঙ্ঘন করে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ ও বিরল প্রজাতির তক্ষক মজুত করে রেখেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি আভিযানিক দল আজ গভীর রাতে সোহেল পারভেজের বাড়িতে ঝটিকা তল্লাশি চালায়।
তল্লাশিকালে ঘরের ভেতর লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ২ টি জ্যান্ত তক্ষক হাতেনাতে উদ্ধার করা হয় এবং বন্যপ্রাণী পাচারের অপরাধে সোহেল পারভেজকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধারকৃত তক্ষক দুটি আন্তর্জাতিক বাজারে কোটি টাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচারকারীরা মজুত করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তির নামে পূর্বে অন্য কোনো অপরাধের রেকর্ড বা অভিযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
র্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেফতারের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধারকৃত মূল্যবান তক্ষক দুটিকে সুস্থ অবস্থায় যশোর জেলা বন বিভাগ কর্মকর্তার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। বন্যপ্রাণীগুলো নিরাপদে অবমুক্ত করার ব্যবস্থা নেবে বন বিভাগ।
অন্যদিকে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরপূর্বক গ্রেফতারকৃত আসামি সোহেল পারভেজকে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এই চক্রের সাথে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।ছবি সংগৃহীত।

