রামকৃষ্ণ মিশন এলাকা থেকে চাকুসহ ২ সদস্য আটক

রামকৃষ্ণ মিশন এলাকা থেকে চাকুসহ ২ সদস্য আটক

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

যশোর শহরের শংকরপুর ও রামকৃষ্ণ মিশন এলাকায় দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে প্রকাশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে একটি সক্রিয় কিশোর গ্যাং চক্রের দুই সদস্যকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় আটককৃতদের দেহ তল্লাশি করে একটি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) দুপুরে শহরের রামকৃষ্ণ মিশন এলাকা থেকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি চৌকস দল এই অভিযান পরিচালনা করে।

এই গ্যাং কালচারের সাথে জড়িত আটককৃতরা হলো— যশোর শহরের পূর্ব বারান্দীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মাসুদুর রহমানের ছেলে শাওন হোসেন এবং একই এলাকার অপর এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর। এই চাঞ্চল্যকর আটকের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুম বিল্লাহ গণমাধ্যমকে জানান, আজ মঙ্গলবার দুপুরের দিকে তারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে, রামকৃষ্ণ মিশন ও শংকরপুর এলাকায় বেশ কয়েকজন কিশোর দলবদ্ধ হয়ে প্রকাশ্যে ধারালো দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে ঘোরাফেরা করছে এবং সাধারণ পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। কিশোরদের এমন উগ্র আচরণে পুরো এলাকায় তীব্র জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এমন খবর পাওয়ার পরপরই কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি আভিযানিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ঘেরাও করে ওই দুইজনকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের বাকি সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।

আটকের পর উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে পুলিশ তাদের দেহ তল্লাশি করে। এ সময় গ্যাং সদস্য শাওন হোসেনের প্যান্টের পকেট থেকে একটি ধারালো বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে কোতোয়ালি থানায় অস্ত্র ও জননিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে শাওন হোসেনকে সরাসরি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে এবং অপর অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরকে সংশোধনের উদ্দেশ্যে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানায়, আটককৃত এই দুই কিশোর মূলত শহরের একটি চিহ্নিত কিশোর গ্যাং চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করে আসছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অবৈধ দেশীয় অস্ত্র ও চাকু নিয়ে মহড়া দিয়ে আসছিল এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। শহরের সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই গ্যাং কালচার সম্পূর্ণ নির্মূল করতে পুলিশের এমন চিরুনি অভিযান ও কড়া নজরদারি আগামী দিনগুলোতেও চাক্ষুষভাবে অব্যাহত থাকবে। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *