স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে এসে পৃথক দুটি চুরির ঘটনায় দুই নারী রোগীর ব্যাগ থেকে মোট ৯ হাজার ৭০০ টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। আজ রবিবার (১২ জুলাই ২০২৬) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে হাসপাতালের বহির্বিভাগ (আউটডোর) এবং এক্স-রে বিভাগের সামনে অত্যন্ত জনাকীর্ণ পরিবেশে এই চুরির ঘটনাগুলো ঘটে। এ ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
হাসপাতাল ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, প্রথম চুরির ঘটনাটি ঘটে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে। যশোরস্থ বাঘারপাড়া উপজেলার পুকুরিয়া গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা মিনি বেগম (৩৫) হাসপাতালের আউটডোরের ১১ নম্বর গাইনি ওয়ার্ডের সামনে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে লাইনে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় লাইনের প্রচণ্ড ভিড়ের সুযোগ নিয়ে অজ্ঞাতনামা পকেটমার বা চোর চক্রের সদস্যরা তাঁর সাইড ব্যাগের চেইন বা অংশ কেটে ভেতরে থাকা নগদ ৩ হাজার ২০০ টাকা সুকৌশলে চুরি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে টিকিট কাটার সময় মিনি বেগম চুরির বিষয়টি টের পান।
এর ঠিক কিছু সময় পর বেলা ১২টার দিকে হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগের সামনে দ্বিতীয় চুরির ঘটনাটি ঘটে। চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা নাসিমা বেগম (৫৬) তাঁর ছোট্ট নাতনির প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করানোর জন্য এক্স-রে রুমের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। সেই সুযোগে ওত পেতে থাকা সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সদস্যরা তাঁর ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে নগদ ৬ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়।
ভুক্তভোগী দুই নারী জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে তারা কষ্ট করে চিকিৎসার খরচ ও ওষুধ কেনার টাকা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। কিন্তু চোর চক্র তাদের সেই সম্বলটুকু কেড়ে নেওয়ায় তারা এখন চরম অসহায়ত্বের মধ্যে পড়েছেন। তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বরত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চোরদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, প্রতিদিনই একের পর এক চুরি সংঘটিত হচ্ছে হসপিটাল চত্বরে।
এ বিষয়ে যশোর পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির ইনস্পেক্টর সানজীদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “হাসপাতালে সাধারণ ও অসহায় রোগীদের টাকা প্রতিনিয়ত চুরি হওয়ার বিষয়টা কোনোভাবেই ভালো লক্ষণ নয়। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। হাসপাতালে ডিউটিরত পুলিশ সদস্যদের ইতিমধ্যেই কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তারা যেন সর্বোচ্চ সতর্কতার সহিত দায়িত্ব পালন করেন। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই সংঘবদ্ধ চোর চক্রকে ধরতে পুলিশের বিশেষ অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।” ছবি সংগৃহীত।


