স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এক নারী কর্মীর চরম অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় চিকিৎসাধীন ১০ মাস বয়সী এক অবুঝ কন্যা শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর অসুস্থ শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তরের প্রস্তুতিকালে অক্সিজেনের লাইন পরিবর্তনের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ রোববার (৩১ মে, ২০২৬) বিকেলে হাসপাতাল চত্বরে নিহতের বিক্ষুব্ধ স্বজন ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতাল প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের বেশ বেগ পেতে হয়, তবে কিছু সময় পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশুটির নাম নাজমা। সে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা নুর ইসলামের সন্তান। গত ২৭ মে তীব্র অসুস্থতা নিয়ে শিশুটিকে হাসপাতালের চতুর্থ তলার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গতকাল শনিবার তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত ও জরুরি চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড (স্থানান্তর) করার পরামর্শ দেন।
অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুটিকে খুলনায় নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে তোলার প্রস্তুতি চলছিল। ওই সময় হাসপাতালের চতুর্থ তলার শিশু ওয়ার্ড থেকে নিচে নামানোর প্রক্রিয়া চলাকালে সেখানে দায়িত্বরত পরিচ্ছন্নতা কর্মী (সুইপার) মোছা. নাজমা বেগম (৫৫) চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই সম্পূর্ণ অনধিকারবশত শিশুটির নাকে সংযুক্ত থাকা বিশেষ অক্সিজেন পাইপটি আচমকা খুলে ফেলেন। এরপর তিনি ওই শিশুর মুখে বড়দের ব্যবহৃত একটি সাধারণ অক্সিজেন মাস্ক জোরপূর্বক সংযুক্ত করে দেন।
শিশুটির বাবা নুর ইসলাম অত্যন্ত ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়ের নাকে লাগানো ছোটদের অক্সিজেনের পাইপটি জোর করে পরিবর্তন করার পর পরই তার অবস্থার আরও দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওই পরিচ্ছন্নতা কর্মী এই কাজ করায় অ্যাম্বুলেন্সে তোলার আগেই আমার মেয়ে সম্পূর্ণ অচেতন ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে।” পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে পুনরায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শিশুর পিতা আক্ষেপ করে বলেন, “ওই পরিচ্ছন্নতা কর্মী যদি জোর করে আমার মেয়ের নাকে লাগানো অক্সিজেনের পাইপটি পরিবর্তন না করতো, তবে হয়তো আমার কলিজার টুকরো এভাবে মারা যেত না।”
এই পৈশাচিক ও অবহেলাজনিত মৃত্যুর ঘটনাটি জানাজানি হলে শিশুটির স্বজনেরা হাসপাতালে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং সেখানে এক সাময়িক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং সন্ধ্যার দিকে শিশুটির মরদেহ নিয়ে শংকরপুরের নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। এই স্পর্শকাতর বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব না হলেও, একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ ও অবহেলায় শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে জেলার সচেতন মহল এবং স্বাস্থ্য বিভাগের ভেতর ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ফাইল ছবি।


